যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ছেলের কপালে হিন্দু ধর্মীয় চিহ্ন ‘তিলক-চাঁদলো’ পরতে বাধা দেওয়ার অভিযোগে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ২৫ হাজার পাউন্ড ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করেছেন এক বাবা। নয় বছর বয়সী ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ শিশুটির ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, বৈষম্য ও হয়রানির অভিযোগ তুলে পরিবারটি যুক্তরাজ্যের হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে।
পশ্চিম লন্ডনের ভিকার্স গ্রিন প্রাইমারি স্কুলের পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে এ মামলা করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, যুক্তরাজ্যের ইকুয়ালিটি অ্যাক্ট ২০১০ এবং হিউম্যান রাইটস অ্যাক্ট ১৯৯৮-এর অধীনে শিশুটির অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে।
শিশুটি স্বামীনারায়ণ সম্প্রদায়ের অনুসারী। ২০২১ সাল থেকে সে নিয়মিত কপালে তিলক-চাঁদলো পরে স্কুলে যেত। এটি চন্দনকাঠের পেস্ট দিয়ে তৈরি ইংরেজি ‘ইউ’ আকৃতির একটি চিহ্ন, যার মাঝখানে থাকে লাল কুমকুমের বিন্দু। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ দিকে স্কুল কর্তৃপক্ষ ওই ধর্মীয় চিহ্ন নিয়ে আপত্তি তোলে। পরিবারের অভিযোগ, এরপর শিশুটিকে বারবার তার ধর্মবিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, স্কুল কাউন্সিল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং কিছু কার্যক্রমে অংশ নিতে বাধা দেওয়া হয়।
অভিভাবকদের দাবি, ছেলেকে ধর্মীয় চর্চা চালিয়ে যেতে দিতে চাইলে তাকে কোনো ধর্মভিত্তিক স্কুলে ভর্তি করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, তারা সংবেদনশীলতার সঙ্গে বিষয়টি সামাল দিয়েছে এবং বিকল্প ব্যবস্থার প্রস্তাবও দিয়েছিল। পরিবারের ভাষ্য, এ ঘটনার পর শিশুটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তারা তাকে ওই স্কুল থেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হন।
আইনজীবী ও অ্যাশরে ল-এর পরিচালক অম্বরীশ লিম্বাচিয়া বলেন, বিষয়টি শুধু একটি শিশু বা একটি স্কুলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি যুক্তরাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমতার প্রশ্ন সামনে এনেছে। কোনো শিশুকে তার ধর্মবিশ্বাস ও শিক্ষার মধ্যে একটি বেছে নিতে বাধ্য করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অ্যাকশন ফর হারমনি নামের সংগঠনের প্রধান নিতিন পালান বলেন, যুক্তরাজ্যের প্রতিটি শিশুরই সম্মান পাওয়ার এবং নিজের ধর্মবিশ্বাস পালনের স্বাধীনতা থাকা উচিত। তার মতে, মামলাটির লক্ষ্য বিভাজন তৈরি করা নয়, বরং ন্যায্যতা নিশ্চিত করা।
যুক্তরাজ্যে ১০ লাখের বেশি হিন্দু বসবাস করেন। দেশটির মূলধারার স্কুলগুলোতে সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায়ের আচার-অনুশীলন কীভাবে বিবেচনা করা হয়, এ মামলা সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে। তবে এখনো মামলাটির বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত বিচারিক আদেশ দেওয়া হয়নি। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন।
গাজায় বন্যা ও জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত বাস্তুচ্যুতদের শিবির, রেড ক্রসের উদ্বেগ
হুথি ও ইরানের হামলার আশঙ্কা, আমিরাতে নাগরিকদের সতর্ক করলো যুক্তরাষ্ট্র
ইরান যুদ্ধে ফেঁসে গেছে যুক্তরাষ্ট্র: আব্দুল এল-সায়েদ