যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে বিচারাধীন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নরেশ ভাট আদালতে স্বীকার করেছেন, স্ত্রীর মরদেহ করাত দিয়ে কাটার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। তবে তার দাবি, স্ত্রী মামতা কাফলে ভাট আত্মহত্যা করেছিলেন। তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়ার পর আতঙ্কিত হয়ে মরদেহ গোপন করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
২০২৪ সালে ২৮ বছর বয়সী মামতার নিখোঁজ হওয়া ও সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নরেশের বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রির হত্যা, মরদেহ বিকৃত করা এবং মরদেহ গোপন করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি অভিযোগগুলো অস্বীকার করে আসছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ডব্লিউইউএসএ (চ্যানেল ৯)-এর প্রতিবেদনে তার আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যের বিস্তারিত উঠে এসেছে।
মামলার বিচার শুরুর পাঁচ সপ্তাহ পর আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে নরেশ দাবি করেন, ২০২৪ সালের ৩০ জুলাই ভোরে তিনি স্ত্রীকে বিছানার পাশে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার দাবি, মামতার পাশে বমি ও ওষুধের বড়ি পড়ে ছিল। সেখানে ‘সেলফস’ নামের অত্যন্ত বিষাক্ত কীটনাশকের একটি প্যাকেটও ছিল।
নরেশের ভাষ্য, আগের রাতে তিনি তাদের শিশুকন্যাকে নিয়ে রাত ৮টার দিকে ঘুমাতে যান। পরদিন ভোর ৪টার দিকে শৌচাগারে যাওয়ার জন্য উঠে স্ত্রীকে ওই অবস্থায় দেখতে পান। এরপর প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু স্ত্রী মারা গেছেন বুঝতে পেরে মরদেহ বাথরুমে নিয়ে যান।
তবে স্ত্রীকে অচেতন অবস্থায় পাওয়ার পর জরুরি নম্বর ৯১১-এ ফোন করেননি কেন, আদালতে এমন প্রশ্নের জবাবে নরেশ বলেন, কেন ফোন করিনি, তা জানি না। ফোন করার চেষ্টা করেছিলাম। আমি খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম, আতঙ্কে কী যেন আমাকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছিল।
মরদেহ গোপনের পরিকল্পনা ও করাত দিয়ে কাটার চেষ্টা
নরেশ আদালতে দাবি করেন, স্ত্রীর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর প্রথমে তার মরদেহ পটোম্যাক নদীতে ফেলে দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন। পরে মরদেহ গোপন করার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে হোম ডিপোতে যান। তার দাবি, একই সময়ে আত্মহত্যার কথাও ভেবেছিলেন। এ জন্য তারের কেবলসহ কিছু জিনিস সংগ্রহ করেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যা করেননি।
নরেশ জানান, প্রথমে স্ত্রীর পুরো মরদেহ আবর্জনার পাত্রে ফেলার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু মরদেহ সেখানে না ধরায় করাত দিয়ে কাটার চেষ্টা করেন। আদালতে তিনি বলেন, মরদেহের পা শরীর থেকে আলাদা করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু পুরোপুরি তা করতে পারেননি।
কেন কাজটি শেষ করেননি-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মানসিক ও শারীরিকভাবে তিনি তখন অসহায় হয়ে পড়েছিলেন। নরেশের সাক্ষ্য অনুযায়ী, পরিবারের বাথরুমেই করাত দিয়ে মরদেহ কাটার চেষ্টা করা হয়। পরে তিনি মামতার মরদেহ কয়েকটি আবর্জনার ব্যাগে ভরে ফেলে দেন, যাতে সেটি খুঁজে পাওয়া না যায়।
যেভাবে সামনে আসে নিখোঁজের ঘটনা
২০২৪ সালের ২৯ জুলাই ভিডিও কলে শেষবার মামতাকে দেখা গিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ৫ আগস্ট কাজে না যাওয়ায় তাকে নিখোঁজ হিসেবে জানানো হয়। প্রথম দিকে নরেশ পুলিশকে বলেছিলেন, তার স্ত্রী নিখোঁজ হয়েছেন বলে তিনি মনে করেন না। পরে তিনিই নিখোঁজের প্রতিবেদন করেন।
তদন্তের একপর্যায়ে দম্পতির শোবার ঘর ও বাথরুমে রক্তের দাগ খুঁজে পায় পুলিশ। একটি করাতও উদ্ধার করা হয়, যাতে চুলের অংশ পাওয়া গিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট নরেশকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুই বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও মামতার মরদেহ এখনো উদ্ধার হয়নি।
কী শাস্তি হতে পারে
নরেশের বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগের মধ্যে প্রথম ডিগ্রির হত্যা সবচেয়ে গুরুতর। এ অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। মরদেহ বিকৃত করা এবং গোপন করার অভিযোগে প্রতিটির সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালতে নরেশের এই সাক্ষ্য মামলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। তবে স্ত্রী আত্মহত্যা করেছিলেন বলে তার যে দাবি, তা এখনো আদালতে প্রমাণিত কোনো সিদ্ধান্ত নয়। একইভাবে হত্যার অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তিও হয়নি।
হিন্দু ধর্মীয় তিলক পরায় বাধা, লন্ডনের স্কুলের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ মামলা
ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভির ‘ফ্রিডম প্রাইজ’ গ্রহণ
ইয়েমেনে সৌদি বিমান হামলায় নিহত বেড়ে ১৫, আহত ৩০
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৪ হাজার ৬৪০
ব্রাজিলের ফ্লাভিও যুক্তরাষ্ট্রে পালানোর পরই ট্রাম্প নির্বাচনে হারলেন: লুলার ব্যঙ্গ