সংরক্ষিত সুন্দরবনে বন বিভাগের ধারাবাহিক অভিযান ও কড়া নজরদারির পরও থামছে না হরিণ শিকার। একের পর এক অভিযানে হরিণের মাংস, শিকারের সরঞ্জাম ও নৌকা উদ্ধার হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অধরা থেকে যাচ্ছে মূল শিকারি চক্র। সর্বশেষ কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের অভিযানে দুইটি হরিণের মাথাসহ প্রায় ৭০ কেজি হরিণের মাংস উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে সংরক্ষিত সুন্দরবনের ক/৩৬ কম্পার্টমেন্টের শাকবাড়িয়া নদী সংলগ্ন ৬ নম্বর কয়রা পল্টন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের বনরক্ষীরা।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি সন্দেহভাজন নৌকায় অভিযান চালিয়ে দুইটি হরিণের মাথাসহ প্রায় ৭০ কেজি মাংস উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে জব্দ করা হয় একটি নৌকা, একটি দা, একটি ছুরি এবং প্রায় ১০ ফুট কালো পলিথিন। তবে বনরক্ষীদের উপস্থিতি টের পেয়ে শিকারিরা রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যায়। ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
প্রাথমিকভাবে বন বিভাগের ধারণা, সুন্দরবনের অভ্যন্তরে হরিণ শিকার করে মাংস পাচারের উদ্দেশ্যে এগুলো বহন করা হচ্ছিল। উদ্ধার হওয়া আলামত জব্দ করে বন আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত কয়েক মাসে কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনসহ পশ্চিম সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় হরিণ শিকার, বিষ দিয়ে মাছ নিধন, কাঁকড়া আহরণ এবং বনজ সম্পদ পাচারের অভিযোগে একাধিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ আলামত জব্দ হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মূল শিকারি ও পাচারকারী চক্র পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। ফলে বন বিভাগের ধারাবাহিক অভিযানের পরও অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসছে না।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, কেবল মাঠপর্যায়ে অভিযান চালিয়ে নয়, শিকারিদের আশ্রয়দাতা, অর্থদাতা, মাংসের ক্রেতা এবং পাচার নেটওয়ার্ককে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে পারলেই এই অপরাধ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী শিকার, হত্যা, দখল, পরিবহন, সংরক্ষণ, ক্রয়-বিক্রয় বা পাচার শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অপরাধের ধরন অনুযায়ী কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। বন বিভাগ জানিয়েছে, হরিণ শিকার ও মাংস পাচারের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের ডেপুটি রেঞ্জার মো. নাসির উদ্দিন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে হরিণের মাংসসহ একটি নৌকা ও শিকারের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। বনরক্ষীদের উপস্থিতি টের পেয়ে দুষ্কৃতিকারীরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় বন মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। জড়িতদের শনাক্তে অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।
ময়লার পচা গন্ধে দুর্ভোগে নীলফামারী পৌরবাসী
মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মাসুমের পরিবার
পিকআপচালক ইব্রাহীম হত্যা মামলার প্রধান আসামি রেহেনা গ্রেপ্তার