জুলাই সনদে স্বাক্ষর করলেন প্রধান উপদেষ্টাসহ রাজনৈতিক নেতারা

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৫, ০৫:২৭ পিএম

বহুল আলোচিত ও প্রতীক্ষিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এ স্বাক্ষর করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও দেশের প্রধান রাজনৈতিক নেতারা। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল ৫টার পর সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এই ঐতিহাসিক স্বাক্ষর কার্যক্রম শুরু হয়।

এর আগে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান প্রধান উপদেষ্টা। ৪টা ৩৭ মিনিটে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠানটি। এতে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রতিনিধিরা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা।

গত বছরের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোর সংস্কারে উদ্যোগ নেয়। গঠিত হয় ছয়টি সংস্কার কমিশন- সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, দুর্নীতি দমন, পুলিশ ও বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন।

ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সময়ে এই কমিশনগুলোর প্রস্তাব নিয়ে ৬৩টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দুই দফা আলোচনা করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এ আলোচনার ভিত্তিতে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবে ঐকমত্য গড়ে ওঠে। পরে তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামতসহ চূড়ান্ত করে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর খসড়া। সব দলের মতামত নেওয়ার পর গত মঙ্গলবার এই সনদের চূড়ান্ত কপি দলগুলোর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

অনুষ্ঠান ঘিরে ছিল কড়া নিরাপত্তা। তবে সকাল থেকেই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয় সংসদ ভবন এলাকায়। ‘জুলাই যোদ্ধারা’ ২০২৪ সালের ছাত্র গণঅভ্যুত্থানে আহত ও নির্যাতিত অংশগ্রহণকারীরা তাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, বীরের মর্যাদা এবং সনদে ৩ দফা অন্তর্ভুক্তির দাবিতে অবস্থান নেন অনুষ্ঠানস্থলে।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ তাদের শান্তিপূর্ণভাবে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, সনদের ৫ নম্বর দফা সংশোধন করে তাদের স্বীকৃতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবুও আন্দোলনকারীরা অবস্থান বজায় রাখলে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের সরিয়ে দেয়। এ সময় কিছু সময়ের জন্য ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত আছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন।

তবে, সনদের আইনি ভিত্তি ও বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা না পাওয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অনুষ্ঠানে অংশ নেয়নি। একইসঙ্গে বামপন্থী চারটি দল- সসিপিবি, বাসদ, বাসদ (মার্ক্সবাদী) ও বাংলাদেশ জাসদ সংশোধিত খসড়া না পাওয়ায় সই থেকে বিরত রয়েছে।

DR
আরও পড়ুন