র‍্যাঙ্কিংয়ে হতাশা, বাংলাদেশের বিশ্বকাপের পথে শঙ্কা!

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:১২ পিএম

মিরপুরের কালো মাটির উইকেট আবারও হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের বড় বাধা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জয় নয়, উল্টো এসেছে তিক্ত পরাজয়-সেটাও সুপার ওভারে মাত্র ১ রানের ব্যবধানে। এই হারের সঙ্গে ভেঙে গেছে বাংলাদেশের র‍্যাঙ্কিং লাফের স্বপ্নও। ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতলেই আইসিসি ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে নবম স্থানে উঠতে পারত মেহেদী হাসান মিরাজের দল। কিন্তু সেই সমীকরণ এখন আর নেই।

ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে সিরিজ শুরুর আগে বাংলাদেশ ছিল ১০ নম্বরে, রেটিং পয়েন্ট ৭৪। এক ধাপ ওপরে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের পয়েন্ট ছিল ৮০। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে হারের ফলে এখন র‌্যাঙ্কিংয়ে উন্নতির আর কোনো সুযোগ নেই।

যদি বাংলাদেশ আগামীকাল সিরিজের শেষ ম্যাচটি জেতে, তাদের পয়েন্ট হবে ৭৬। তখনও ৯ নম্বরে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ থাকবে ৭৯ পয়েন্টে। অর্থাৎ অবস্থানের পরিবর্তন হবে না। যদি বাংলাদেশ হারে, তবে তাদের রেটিং পয়েন্ট নেমে আসবে ৭৩–এ, আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বেড়ে দাঁড়াবে ৮১।

শেষ ওয়ানডেতে জিতলেও শুধু পয়েন্টে সামান্য লাভ হবে, কিন্তু র‌্যাঙ্কিং অগ্রগতি নয়।

বাংলাদেশে স্পিন-বান্ধব কন্ডিশনে জয় পাওয়ার উদ্দেশ্যেই তৈরি করা হয়েছিল মিরপুরের কালো উইকেট। প্রথম ম্যাচে সেটিই কাজে এসেছিল-রিশাদ হোসেনের ঘূর্ণিতে বাংলাদেশ পেয়েছিল ৭৪ রানের বড় জয়। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে সেই একই উইকেটে ব্যাটিং হলো বিপর্যস্ত।

সৌম্য সরকারের ৪৫ ও মিরাজের ৩২ ছাড়া কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি। ধীরগতির ব্যাটিংয়ে দল ২০০ পেরোয় রিশাদের ১৪ বলে ৩৯ রানের ঝড়ো ক্যামিওতে। লক্ষ্য তাড়ায় শাই হোপের অপরাজিত ৫৩ রানে ম্যাচ টাই হয়, আর মুস্তাফিজুর রহমানের করা শেষ ওভারে বাউন্ডারি খেয়ে ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি ছিল তিন ফরম্যাট মিলিয়ে প্রথম টাই ম্যাচ-কিন্তু প্রথমটাই রয়ে গেল তিক্ত স্মৃতিতে। সুপার ওভারে ১০ রানের লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশ তুলতে পারে মাত্র ৯। ফলে সিরিজ ১–১ সমতায়।

২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা পেতে হলে বাংলাদেশকে থাকতে হবে শীর্ষ ৯ দলের মধ্যে। এই অবস্থান নির্ধারিত হবে ২০২৭ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত।

এখন আইসিসি র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে রয়েছে ভারত ১২২ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে নিউজিল্যান্ড (১০৯) এবং অস্ট্রেলিয়া (১০৮)। অস্ট্রেলিয়া যদি আজ অ্যাডিলেডে ভারতের বিপক্ষে জেতে, তাদের পয়েন্ট বেড়ে হবে ১১০—তখন তারা উঠে আসবে দুই নম্বরে, নিউজিল্যান্ড নেমে যাবে তিনে। ভারত জিতলে পাবে ১২৩ পয়েন্ট, ধরে রাখবে শীর্ষস্থান।

এই দুই ম্যাচের ফলের সরাসরি প্রভাব পড়বে না বাংলাদেশের অবস্থানে, তবে রেটিংয়ের সূক্ষ্ম পার্থক্যে ভবিষ্যতের সিরিজগুলো আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেসহ ২০২৬ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ খেলবে কমপক্ষে ২১টি ওয়ানডে। এই সময়ের মধ্যেই তাদের র‌্যাঙ্কিং উন্নত করতে হবে, নইলে ২০২৭ বিশ্বকাপে যেতে হবে কঠিন বাছাইপর্বের মাধ্যমে।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সূচিতে আছে পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তিনটি করে ওয়ানডে, এবং জিম্বাবুয়ের মাঠে পাঁচটি ওয়ানডে। সব মিলিয়ে এটিই হতে পারে নবম স্থান ধরে রাখার শেষ বাস্তব সুযোগ।

মিরপুরের কালো উইকেট তৈরির সিদ্ধান্ত ছিল স্পিনারদের সুবিধা দিতে-কিন্তু বাস্তবে সেটি হয়ে উঠেছে ব্যাটারদের দুঃস্বপ্ন। যেখানে প্রতিপক্ষ হোপ বা আকিল হোসেন দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে খেলেছেন, সেখানে বাংলাদেশের ব্যাটাররা বারবার থেমে গেছেন ধীরগতির পিচে। বিশেষজ্ঞদের মতে, র‌্যাঙ্কিংয়ের চেয়ে বড় চিন্তা এখন দলের আত্মবিশ্বাস ও ম্যাচপ্ল্যান পুনর্গঠন।

আগামীকাল সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে জয়ই পারে কিছুটা চাপ কমাতে, তবে র‌্যাঙ্কিংয়ে নয় নম্বরে ওঠার স্বপ্ন আপাতত স্থগিতই থাকছে।

আরও পড়ুন