একেই বলে হেসে-খেলে জয়! অলিখিত ফাইনালে এসে ঠিক চ্যাম্পিয়নের মতোই খেলল বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অলিখিত ফাইনালে এসে ঠিক চ্যাম্পিয়নের মতোই খেলল বাংলাদেশ। মিরপুরের মাঠে ব্যাটে-বলে ছড়ালো টাইগারদের রাজত্ব, ফলাফল-১৭৯ রানের দাপুটে জয় আর সিরিজ জয়ের উচ্ছ্বাস!
প্রথম ম্যাচে জয় পেয়ে সিরিজে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ, দ্বিতীয় ম্যাচে সুপার ওভারে হেরে যায় তারা। ফলে শেষ ওয়ানডেটি হয়ে ওঠে সিরিজ নির্ধারণী লড়াই। যেখানে কোনো ভুলের সুযোগ রাখেননি মেহেদী হাসান মিরাজরা।
টস জিতে আবারো আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। সিদ্ধান্তটা কতটা সঠিক ছিল, সেটি বুঝতে সময় লাগেনি। শুরু থেকেই ঝড় তোলেন দুই ওপেনার সৌম্য সরকার ও সাইফ হাসান। ধীর মিরপুরের উইকেটেও তাদের ব্যাটে আসে আগ্রাসী ছন্দ। ক্যারিবীয় বোলারদের ওপর ঝড় তুলে মাত্র ২৫ ওভারে তুলে ফেলেন ১৭৬ রান।
দুজনেরই সামনে ছিল সেঞ্চুরির সুযোগ। কিন্তু সাইফ ৭২ বলে ৮০ রানে থেমে যান, কিছুক্ষণ পরই ৮৬ বলে ৯১ রান করে ফেরেন সৌম্য। তবুও এই জুটি ততক্ষণে বাংলাদেশের ইনিংসের ভিত গড়ে দিয়েছে পাকা করে।
এরপর তাওহিদ হৃদয় (২৮) ও শান্ত (৪৪) কিছুটা জুটি গড়লেও ইনিংসের মাঝপথে উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তবে শেষ দিকে মিরাজ (১৭) ও নুরুল হাসান সোহান (১৬*) ২৪ বলে ৩৫ রানের জুটি গড়ে ইনিংসটিকে এগিয়ে দেন ২৯৬ রানে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার আকিল হোসেইন ১০ ওভারে ৪১ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন তিনি।
২৯৭ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শুরু থেকেই বিপর্যয়ে। নাসুম আহমেদ ঘূর্ণির জাদু দেখিয়ে ৩৫ রানের মধ্যেই ফিরিয়ে দেন আথানাজে, ব্রেন্ডন কিং ও অগাস্টকে। এরপর তানভীর ইসলামের বলে ক্যারিবীয় অধিনায়ক শাই হোপ (৪) ফিরলে শেষ হয়ে যায় প্রতিরোধের স্বপ্ন।
রিশাদ হোসেন তার লেগ স্পিনে তুলে নেন ৩ উইকেট, যার মধ্যে রাদারফোর্ড ও গ্রেইভস ছিলেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মাঝেমধ্যে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন আকিল হোসেইন, তবে তাতেও লাভ হয়নি। ১৫ বলে ২৭ রান করে মিরাজের বলে বোল্ড হয়ে শেষ ব্যাটার হিসেবেই সাজঘরে ফেরেন তিনি।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ গুটিয়ে যায় ১১৭ রানে ৩০.১ ওভারেই। ১৭৯ রানের এই জয় বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যবধানের জয়।
২০২৩ সালে আয়ারল্যান্ডকে সিলেটে ১৮৩ রানে হারিয়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের ব্যবধানের জয় এসেছিল। আজ মিরপুরে সেটি ছোঁয়ার সুযোগ ছিল মিরাজদের সামনে। কিন্তু আকিল-পিয়েরের শেষ উইকেট জুটি (২০ রান) সেই রেকর্ডটিকে অক্ষত রাখে!
সংক্ষিপ্ত স্কোর-
বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৯৬/৮ (সৌম্য ৯১, সাইফ ৮০, নাজমুল ৪৪, হৃদয় ২৮, মিরাজ ১৭, সোহান ১৬*; আকিল ৪/৪১, অ্যাথানেজ ২/৩৭, চেজ ১/৫৩, মোতি ১/৫৩)।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৩০.১ ওভারে ১১৭ (আকিল ২৭, কিং ১৮, অ্যাথানেজ ১৫, কার্টি ১৫. গ্রিভস ১৫; নাসুম ৩/১১, রিশাদ ৩/৫৪, তানভীর ২/১৬, মিরাজ ২/৩৫)।
ফল: বাংলাদেশ ১৭৯ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা: সৌম্য সরকার
সিরিজ: বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জয়ী।
সিরিজসেরা: রিশাদ হোসেন
