কেন ইরানে হামলা থেকে পিছু হটলেন ট্রাম্প?

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক হামলা চালানো থেকে আবারও পিছিয়ে এসেছেন। সম্প্রতি ইরানের জ্বালানি পরিকাঠামোয় মার্কিন হামলার হুমকির জবাবে তেহরানও পাল্টা কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করে।

ইরান স্পষ্ট বার্তা দেয়, যেকোনো ভুল পদক্ষেপ নেওয়া হলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি খাতকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু করা হবে। এরপরই কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তন করে ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন, অঞ্চলটির দেশগুলোর অনুরোধেই তিনি আপাতত সিদ্ধান্ত মুলতবি রেখেছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখা ও ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম বন্ধের খসড়া চুক্তির স্বার্থে এই ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, মিত্রদের চাপ এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকটই ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তনের মূল কারণ।

আঞ্চলিক মিত্রদের উদ্বেগ ও মধ্যস্থতা

সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ট্রাম্পকে ফোন করে ইরানে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান। কারণ রিয়াদের আশঙ্কা ছিল, মার্কিন হামলার পর ইরান প্রতিবেশী পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাস ক্ষেত্রে ধ্বংসাত্মক পাল্টা আঘাত হানবে।

সৌদি আরব ছাড়াও কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক ও পাকিস্তান এই কূটনৈতিক মধ্যস্থতায় ভূমিকা রেখেছে। তারা স্পষ্ট করে যে, ওয়াশিংটনের সংঘাতের খেসারত দিতে তৈরি নয় আঞ্চলিক মিত্ররা, যা যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন প্রশাসনকে গভীরভাবে ভাবতে বাধ্য করে।

ইরানের সর্বোচ্চ সতর্কতা ও কঠোর বার্তা

 

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি এবং সেনাপ্রধানরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কঠোর জবাব দেওয়ার ব্যাপারে হুঁশিয়ারি দেন। তেহরানের সামরিক কমান্ড নিশ্চিত করে, হামলা হলে ইসরায়েলের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর মার্কিন অনুগত স্থাপনায় চরম আঘাত হানা হবে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম CNN

 

 ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের মতে, কঠোর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরানের শক্তিশালী সামরিক জবাব দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। এর আগে আঞ্চলিক মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাদের প্রস্তুত থাকার প্রমাণও একাধিকবার উপস্থাপন করা হয়েছে।

অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও অর্থনৈতিক সমীকরণ

 

২০২৬ সালের মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন কোনো যুদ্ধে জড়ানো ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রিপাবলিকান পার্টির জন্য বিশাল রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করত। মধ্যপ্রাচ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম লাফিয়ে বাড়ত, যা মার্কিন অর্থনীতিকে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করত।

এছাড়া Reuters/Ipsos

 

-এর সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, মাত্রা এক-তৃতীয়াংশ সাধারণ মার্কিন নাগরিক বিদেশে সামরিক অভিযানে সমর্থন জানাচ্ছেন। তারা চান ট্রাম্প প্রশাসন বৈশ্বিক সংঘাতের বদলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরের অর্থনৈতিক সমস্যায় নজর দিক।

কৌশলগত পিছু হটা

 

সব মিলিয়ে ট্রাম্পের 'সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ' নীতি এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা তাকে সমঝোতার পথে হাঁটতে বাধ্য করেছে। আঞ্চলিক ধ্বংসযজ্ঞ এড়াতে ও নির্বাচনে জনসমর্থন ধরে রাখতেই ট্রাম্প হামলা স্থগিত করে আলোচনার দরজা খোলা রাখার পথ বেছে নিয়েছেন।

(তথ্যসূত্র: পার্সটুডে, সিএনএন, রয়টার্স/ইপসোস এবং আল-আহদ)