ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের ঐতিহাসিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লেবাননে বড় ধরনের বিমান হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সকাল থেকে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বোমাবর্ষণ করছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। এই হামলার মাধ্যমে তেল আবিব স্পষ্ট বার্তা দিলো যে, ওয়াশিংটন-তেহরান সমঝোতা চুক্তিটি লেবানন বা হিজবুল্লাহর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
লেবাননের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের অন্যতম প্রধান শহর টায়ার এবং নাবাতিয়েহ এলাকায় আজ সকাল থেকে দফায় দফায় বিমান হামলা চালানো হয়েছে। হামলার ঠিক আগে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী টায়ার শহরের বাসিন্দাদের জন্য জরুরি ‘সরে যাওয়ার নির্দেশ’ জারি করে। ওই নির্দেশনায় বলা হয়, নাগরিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে সবাইকে অবিলম্বে ঘরবাড়ি ছেড়ে ‘জাহরানি নদী’র উত্তরে চলে যেতে হবে।
হামলার পর এক বিবৃতিতে আইডিএফ জানিয়েছে, তারা রাজনৈতিক নেতৃত্বের নির্দেশনা অনুযায়ী ইরানে সরাসরি হামলা বন্ধ রেখেছে। তবে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের অভিযান পূর্বের ন্যায় অব্যাহত থাকবে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতির শর্তে লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়।
দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধ অবশেষে পাকিস্তানের সক্রিয় মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছিলেন যে, লেবাননসহ সর্বত্র এই বিরতি কার্যকর হবে। তিনি আগামী ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে উভয় পক্ষকে চূড়ান্ত আলোচনার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তবে নেতানিয়াহু এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। ইসরায়েল ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননের সীমানার ভেতরে একটি ‘নিরাপত্তা বাফার জোন’ তৈরি করতে চায় এবং ইতোমধ্যেই সেখানে ইসরায়েলি স্থল সেনারা প্রবেশ করেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। পরদিন থেকেই ইরানের সমর্থনে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা শুরু করে। এক মাসের যুদ্ধে কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। বর্তমানে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্মুখ যুদ্ধ কিছুটা স্তিমিত হওয়ার আভাস মিললেও লেবানন সীমান্ত এখন নতুন করে এক দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি