ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম আজিমপুর সরকারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও আলোচনাসভায় এক অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য রাখেন।
তিনি বলেন, বৃক্ষরোপণ আমাদের দায়িত্ব নয়, বরং আমাদের দায়। তার মতে, দ্রুত নগরায়ণ, পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে রাজধানী ঢাকা ক্রমেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যাপক সবুজায়নের কোনো বিকল্প নেই।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান। তিনি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান। ফরিদা খানম বলেন, একটি গাছ শুধু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে না, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি আরও বলেন, প্রায়ই বৃক্ষরোপণকে আমরা একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি হিসেবে দেখি। কিন্তু বাস্তবে এটি কোনো সৌখিনতা নয়, বরং আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। প্রতিটি নাগরিক যদি বছরে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ ও পরিচর্যার দায়িত্ব নেয়, তাহলে রাজধানীর পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব।
ফরিদা খানম উল্লেখ করেন, সবুজ ঢাকা গড়তে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ—সবার অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে পারলেই আমরা আগামী প্রজন্মের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য ঢাকা উপহার দিতে পারব।
ঢাকা বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ শহর। দ্রুত নগরায়ণ ও শিল্পায়নের ফলে বায়ুদূষণ, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার বায়ুদূষণ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে অন্যতম উচ্চমাত্রার। এই পরিস্থিতিতে বৃক্ষরোপণ শুধু পরিবেশ রক্ষার উপায় নয়, বরং জনস্বাস্থ্য ও নগরজীবনের টিকে থাকার জন্য অপরিহার্য।
সরকার ইতিমধ্যে নগর এলাকায় সবুজায়ন বাড়াতে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া এসব উদ্যোগ সফল হবে না। নগর পরিকল্পনাবিদরা প্রস্তাব দিয়েছেন, প্রতিটি নতুন আবাসিক প্রকল্পে অন্তত ২০ শতাংশ জায়গা সবুজায়নের জন্য সংরক্ষণ করা উচিত।
ফরিদা খানমের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, বৃক্ষরোপণ কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং টিকে থাকার দায়। যদি প্রতিটি নাগরিক এই দায়কে নিজের দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করে, তবে ঢাকা আবারও সবুজ নগরীতে পরিণত হতে পারে।
বাঙালিত্বের সার্টিফিকেট ধার নয়, স্বকীয়তায় বাংলাদেশ: তথ্যমন্ত্রী
ইউনেস্কো সাক্ষরতা পুরস্কার পেলো চলনবিলের 'ভাসমান স্কুল'