দেশে যে পরিমাণ আম উৎপাদন হয় সেগুলোর আঁটি দিয়ে ভোজ্য তেল তৈরি করে কিছুটা হলেও চাহিদা মেটানো সম্ভব বলে দাবি করেছেন সিরডাপের সাবেক কর্মকর্তা ও গবেষক জাহাঙ্গীর সেলিম। রোববার (২৭ মে) সকালে চাপাইনবাবগঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরাম আয়োজিত ‘বাংলাদেশে আম উৎপাদন: সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক সেমিনারে মুক্ত আলোচনায় এসব বলেন তিনি।
জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সেমিনারে গবেষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ভারতের মালদায় আমের আঁটি দিয়ে তেলের চাহিদার জোগান কিছুটা হলেও দেয়া হয়। তথ্য অনুযায়ী আমাদের দেশে ২৫-২৭ লাখ টন আম উৎপাদন হয়। আর তা দিয়ে ভোজ্য তেলের চাহিদার মোট ৪ শতাংশ মেটানো সম্ভব।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মু. জিয়াউর রহমান (এমপি), সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম (এমপি) এবং চাপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল ওদুদ।
এ সময় আমের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে বক্তারা বলেন, দেশে উৎপাদিত ফলের মধ্যে আম সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সুস্বাদু ফল। একটা সময় উত্তরবঙ্গ বা রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ কেন্দ্রিক আম চাষ হলেও এখন দেশের বিভিন্ন জায়গায় তা চাষ হচ্ছে। তবে চাপাইনবাবগঞ্জের আমের প্রতি মানুষের দুর্বলতা আগের মতোই রয়েছে। ফলে আমের রাজধানী হিসাবে চাপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিচিত।
এ দেশে আম উৎপাদনের জমির পরিমাণ, মোট উৎপাদন ও ফলন ক্রমান্বয়ে বাড়লেও উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ও রপ্তানি পর্যায়ে বিভিন্ন সম্যসার কারণে আমচাষি, ব্যবসায়ী ভোক্তা ও রপ্তানিকারকগণ এর সুফল পুরোপুরি পাচ্ছেন না। তাছাড়া উন্নত উৎপাদন ও প্রযুক্তির অভাব রয়েছে। পোকামাকড় ও রোগবালাইয়ের আক্রমণ বৃদ্ধি এবং প্রতিরোধ বা প্রতিকারের জ্ঞানের অভাব থাকায় চাষিরা আম চাষে তূলনামূলক লাভবান হতে পারছেন না।
এসময় তারা আরও বলেন, আম আহরণের উন্নত প্রযুক্তি এবং তা ব্যবহারের অভাবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা নষ্ট হয়ে যায়। আম পরিবহনে বৈজ্ঞানিক পরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় এবং স্থানীয় ও দূরবর্তী পাইকারি মার্কেট ও বিমানবন্দরে হিমাগারের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় আম চাষ এবং উৎপাদনে নানান সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান সময়ে শিক্ষিত তরুণেরা কৃষির প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। এটা অবশ্যই দেশের কৃষিখাতের ভালো দিক। আম এ দেশের সব শ্রেণি ও পেশার মানুষের কাছে জনপ্রিয় ফল। দেশে ১৮-২০ কোটি মানুষ। সুতরাং আমের জন্য জন্য এটি স্থানীয়ভাবে বিশাল স্থানীয় বাজার। আমরা যদি বিষমুক্ত আম নিশ্চিত করে দেশের বাজারে আস্থা অর্জন করে বিদেশে রপ্তানি করতে পারি তাহলে দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখা সম্ভব।
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ এগ্রো ক্যামিকেল ম্যানুফাকচারার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি লো এস এম মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ার প্রমুখ।
