ঝিকরগাছায় জামায়াতের মহিলা নেত্রীদের ওপর বিএনপির হামলা, আহত ২০

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:১৪ এএম

যশোরের ঝিকরগাছা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কীর্তিপুর এলাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা নেত্রীরা ভোট চাইতে গেলে হামলা চালিয়ে আহত করেছে বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা। 

রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। 

ঘটনার প্রতিবাদে সন্ধ্যায় যশোর প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ঝিকরগাছা উপজেলা মহিলা জামায়াত নেতৃবৃন্দ।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রোববার দুপুরে ঝিকরগাছা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কীর্তিপুর এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা নেত্রীরা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চাইতে গেলে উপজেলা যুবদলের সভাপতি আরাফাত রহমান কল্লোলের নেতৃত্বে, সবুজ, আহনাত, সোহাগসহ ১৫-২০ জনের একটি দল জামায়াতের মহিলা কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা করে আহত ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ভাঙচুর করে। ওইসময় তারা ভ্যানিটিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা জামায়াতের মহিলা নেত্রী মিসেস শিখা খাতুন বলেন, ‘পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে আমাদের মহিলা নেত্রী রাফিজা, নাসিমা, কামরুন্নাহার, তুলি, বিলকিস, জোসনাসহ ১০ জনের একটি নারী টিম ১০ দলীয় জোট মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ডাক্তার মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইতে যান। তখন যুবদল নেতা আরাফাত রহমান কল্লোলের নেতৃত্বে আমাদের কর্মীদের মারপিট করে আহত করেছে। নারীদের শ্লীলতাহানি ও লাঞ্ছিত করেছে তারা। আহত নারী নেত্রী জোসনা ও কামরুন্নাহার চিকিৎসকের পরামর্শে বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। জোসনার মোবাইল ফোন ও কামরুন্নাহারের কাছে থাকা ভ্যানেটি ব্যাগ  তারা নিয়ে গেছে। ব্যাগে নগদ টাকা ও মূল্যবান জিনিস ছিল। আমরা এ হামলার তীব্র প্রতিবাদ করছি ও জড়িতদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি করছি।’

হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডাক্তার মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ বলেন,‘এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাচ্ছে একটি দল। তারা ভোটারদেরকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধার সৃষ্টি করছে।’

এ বিষয়ে যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। আপনার কাছ থেকে শুনলাম। যদি এমন ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

ঝিকরগাছা সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রনি খাতুন সাংবাদিকদের বলেন,‘লিখিত অভিযোগ দিলে আচরণ বিধি অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ আশেক হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

HN
আরও পড়ুন