ফ্রান্সে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার প্রস্তাবিত আইনটি বাতিল করেছে দেশটির সাংবিধানিক পরিষদ। এই সিদ্ধান্তকে সরকারের জন্য একটি বড় নীতিগত ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সাংবিধানিক পরিষদ রায়ে জানিয়েছে, এ ধরনের ঢালাও নিষেধাজ্ঞা শিশুদের যোগাযোগের অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর অসামঞ্জস্যপূর্ণ হস্তক্ষেপ সৃষ্টি করে। জুলাইয়ের শেষে বামপন্থী সংসদ সদস্যদের এক আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এই আদেশ দেন।
আইনটি কার্যকর হলে টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন মেসেজিং অ্যাপ এবং অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্মও নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তো। তবে পরিষদ মনে করে, এই উদ্যোগের আওতা প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত ছিল।
নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি বয়স যাচাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আদালত। ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সুরক্ষার কোনো সুস্পষ্ট নীতিমালা এই আইনে রাখা হয়নি বলে জানানো হয়।
আদালতের রায়ের পর ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ নতুন করে একটি আইনি বাধ্যবাধকতাপূর্ণ বিল তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। ২০২৭ সালের বসন্তের মধ্যেই আরও শক্তিশালী কাঠামোয় আইনটি পুনর্গঠনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং অনলাইন হয়রানি বন্ধে বিভিন্ন সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে কঠোর নিয়মের দাবি জানিয়ে আসছিল। স্থানীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা 'আর্কম'-এর তথ্য মতে, দেশটির অধিকাংশ অভিভাবক ও কিশোর-কিশোরীও নিয়ন্ত্রণের পক্ষে ছিল।
ইউরোপীয় কমিশনের নীতিমালা ও আদালতের পর্যবেক্ষণ মেনে নতুন আইনি খসড়া তৈরির কাজ চলছে। শিশুদের অনলাইন সুরক্ষা এবং নাগরিক স্বাধীনতা—এই দুইয়ের ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন ফরাসি সরকারের মূল চ্যালেঞ্জ।
তথ্যসূত্র: ফ্রান্সের সাংবিধানিক পরিষদের অফিসিয়াল রায় এবং প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের বিবৃতি।
ডারউইন থেকে নতুন বাংলাদেশের গল্প, পথ দেখাচ্ছেন অধিনায়ক শান্ত
প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা হবে: ববি হাজ্জাজ