মানুষের জন্য আবাসিক হোটেলের কথা আমরা সবাই জানি, কিন্তু এবার গরুর জন্য তৈরি হয়েছে এক ব্যতিক্রমধর্মী 'আবাসিক হোটেল'। যেখানে মানুষের হোটেলের মতোই রয়েছে চেক-ইন ও চেক-আউট ব্যবস্থা। চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার ডুগডুগি গরুর হাট সংলগ্ন একটি আমবাগানের ভেতর গড়ে উঠেছে অভিনব এই ‘আরিফ গবাদিপশু হোটেল কাম ওয়্যারহাউস’।
উদ্যোক্তা আরিফুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে গরু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। হাটে আসা দূর-দূরান্তের গরু ব্যবসায়ীদের গবাদিপশু রাখার নিরাপদ জায়গার সংকট দূর করতেই তিনি এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন। গত বছর কোরবানির পশুর হাটকে কেন্দ্র করে পরীক্ষামূলকভাবে এটি চালু করা হলেও ব্যবসায়ীদের ব্যাপক সাড়া পাওয়ায় বর্তমানে এটি সারা বছরই খোলা রাখা হচ্ছে।
হোটেলটিতে গরুর ওজন অনুযায়ী দৈনিক ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। ৩০০ কেজির নিচের গরুর জন্য ২৪ ঘণ্টার ভাড়া ৫০০ টাকা এবং ৩০০ কেজির বেশি ওজনের গরুর জন্য ৭০০ টাকা। মানুষের হোটেলের মতো এখানেও গরু প্রবেশের পর টানা ২৪ ঘণ্টাকে একদিন হিসেবে গণ্য করা হয়। চাইলে এখানে ছাগল রাখার ব্যবস্থাও রয়েছে।

এই হোটেলে গরুর খাওয়াদাওয়া পুরোপুরি বুফে পদ্ধতিতে দেওয়া হয়। প্রতিটি গরুর জন্য নির্দিষ্ট খাবারের পাত্রে সার্বক্ষণিক ঘাস, বিচালি ও সাইলেজ রাখা থাকে। গরুর চাহিদা অনুযায়ী দিনে তিন থেকে চারবার খাবার দেওয়া হয়। এছাড়া, হোটেলের কর্মীরা নিয়মিত গোসল করিয়ে গবাদিপশুর পরিচর্যা করেন এবং পুরো এলাকা সার্বক্ষণিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হয়। কোনো পশু অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয় প্রাণী সেবা কর্মী ও চিকিৎসকের সহায়তায় চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়।
ডুগডুগি পশুর হাট জেলার অন্যতম বড় হাট হওয়ায় সারা বছর দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এখানে বেপারীরা আসেন। আগে হাটে গরু নিয়ে এলে রাত কাটানো ও পশুর নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হতো। এখন এই হোটেল চালু হওয়ায় ব্যবসায়ীরা নিরাপদে গরু রেখে স্বস্তিতে ব্যবসা করতে পারছেন।

চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রের উপপরিচালক ডা. আ.হা.ম. শামিমুজ্জামান এই উদ্যোগকে অভিনব ও সময়োপযোগী বলে আখ্যায়িত করেছেন। হোটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে চাহিদা অনুযায়ী আবাসন আরও বাড়ানো হবে এবং পুরো এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে আনা হবে।