ময়মনসিংহে কলেজছাত্র খুন, অভিযুক্তের বাড়িতে মিলল পিস্তল ও গুলি

আপডেট : ০৯ জুন ২০২৬, ০১:৩৭ পিএম

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে বাসায় ফেরার পথে নাহিয়ান রবিন (২৩) নামে এক কলেজছাত্রকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মো. রাজীব নামে এক যুবকের সম্পৃক্ততার সন্দেহ করছে পুলিশ। নিহত রবিন ও সন্দেহভাজন রাজীবের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্বজনরা।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৯ মে) সাড়ে ১১টার দিকে রাজীবকে তার পৌর শহরের কলেজ রোড এলাকার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এর আগে সোমবার (৮ জুন) রাত পৌনে ১টার দিকে পৌর শহরের মহিলা কলেজের পেছনের মাজার রোড এলাকায়, রবিনের বাসার কাছাকাছি এ হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত নাহিয়ান রবিন গফরগাঁও পৌর এলাকার সিলাশী গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

নিহতের স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত পৌনে ১টার দিকে রবিন তার প্রতিবেশী ও বন্ধু শাকিবুল হাসানের (মাসুম) সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে বাসায় ফিরছিলেন। মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন শাকিবুল। তারা মাজার রোড এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাদের গতিরোধ করে হামলা চালায়।

এ সময় হামলাকারীদের আক্রমণে শাকিবুল দৌড়ে পালিয়ে গেলেও রবিনকে ধরে লোহার রড দিয়ে মারধর এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

পুলিশ ও স্বজনদের কাছ থেকে জানা গেছে, নিহত রবিনের সঙ্গে গফরগাঁও কলেজ রোড এলাকার আবদুল মোতালেবের ছেলে মো. রাজীবের পূর্ব বিরোধ ছিল। রবিন ও রাজীব দুজনেই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তাদের কোনো সাংগঠনিক পদ-পদবি ছিল না। তাদের মধ্যকার বিরোধের ঘটনায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় রবিন আসামিও ছিলেন।

পুলিশের ধারণা, ওই পূর্ব বিরোধের জের ধরেই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে। ঘটনার পর মঙ্গলবার রাজীবের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে সিঁড়িতে রক্তমাখা জুতার দাগ পাওয়া গেছে, যা হত্যাকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, নিহত ও আটক যুবক দুজনেই আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল। তাদের মধ্যে পূর্ব বিরোধের জেরেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে আমাদের ধারণা। আটক রাজীবের বাসায় আমরা বিভিন্ন আলামত পেয়েছি।

তিনি আরও বলেন, রাজীবের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে দুটি পিস্তল, ১০ রাউন্ড তাজা গুলি, দুটি ম্যাগাজিন ও মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আরও একটি পিস্তল সদৃশ বস্তু পাওয়া গেছে।

MCH/SN
আরও পড়ুন