ধর্ষণে অভিযুক্ত’ শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা, সাজালেন নাটক

আপডেট : ১৩ জুন ২০২৬, ১০:৪০ এএম

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে ধর্ষণ ও পরবর্তীতে গর্ভের ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক জিসান মিয়া প্রধানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) কুমিল্লা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। অভিযুক্ত জিসান মিয়া প্রধান ছাত্রশিবিরের কুমিল্লা পশ্চিম জেলা শাখার সাবেক সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জিসান মিয়া প্রধান দাউদকান্দিতে তার ভাড়া বাসায় ওই তরুণীকে নিয়ে যান এবং সেখানে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে ওই তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে তার গর্ভের ভ্রূণ নষ্ট করা হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়। পরে ভুক্তভোগী তরুণী বিয়ের দাবি জানালে জিসান প্রথমে রাজি হলেও পরে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে আইনি জটিলতা ও সামাজিক চাপ থেকে বাঁচতে গত বৃহস্পতিবার তিনি কৌশলে আত্মগোপনে চলে যান। একই সময়ে জিসানকে খোঁজার নামে তার চাচাতো ভাই রাসেল আহমেদের মাধ্যমে থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরিও (জিডি) করানো হয়।

নিখোঁজ হওয়ার নাটক সাজানোর প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর, গত শুক্রবার রাতে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে জিসানকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর তাকে চিকিৎসার জন্য দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

দাউদকান্দি মডেল থানার তদন্ত পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) সামছুল আলম জানান, প্রাথমিক তদন্তে জিসানকে অপহরণ করার কোনো সত্যতা বা তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং ব্যক্তিগত অপরাধ ও প্রতারণামূলক ঘটনা ধামাচাপা দিতে তিনি নিজেই নিখোঁজ হওয়ার এই নাটক সাজিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

তিনি আরও জানান, বর্তমানে অভিযুক্ত জিসান কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে নারী ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগ এনে করা মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, চিকিৎসাধীন থাকায় এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত জিসানের কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

SN
আরও পড়ুন