সুন্দরবনে সক্রিয় কুখ্যাত 'নানা ভাই বাহিনী'র প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ জন ডাকাত বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পণ করেছে। বাগেরহাটের মোংলা এলাকার ধানসিদ্ধির চরে অভিযান চালিয়ে এই সফলতা অর্জন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা সাব্বির আলম সুজন জানান, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে 'অপারেশন রিস্টোর পিস' ও 'অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড' নামক দুটি বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। ধারাবাহিক চাপের কারণে দস্যু দলগুলো কোণঠাসা হয়ে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারির ফলে এ পর্যন্ত ২৯ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে এবং জিম্মি অবস্থা থেকে ৪২ জন সাধারণ মানুষকে জীবিত উদ্ধার করে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। পূর্বে ছোট সুমন ও জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩৭ জন সদস্যও আত্মসমর্পণ করেছিল।
কোস্ট গার্ড জানায়, আত্মসমর্পণকারী ডাকাতদের নিকট থেকে বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র, কয়েকশ রাউন্ড তাজা ও ফাঁকা গুলি এবং ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল।
আটককৃতদের মধ্যে সাতজন খুলনা, চারজন সাতক্ষীরা এবং একজন বাগেরহাট জেলার বাসিন্দা। উদ্ধারকৃত অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
সরকারের 'জিরো টলারেন্স' নীতি অনুসরণ করে কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে সুন্দরবনের অবশিষ্ট সকল সক্রিয় বনদস্যুকে অনতিবিলম্বে অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আকুল আহ্বান জানানো হয়েছে।
ধরলা নদীতে বিএসএফের গুলি, ৪ নৌকা ছিনতাই
হুতিদের দখলে মোখা : মোড় নিচ্ছে ইয়েমেন যুদ্ধ