কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: পর্যটন নগরী মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার খ্যাতি রয়েছে। এ উপজেলায় সারি সারি চায়ের বাগানের সাথে রয়েছে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, হাওর, লেক ইত্যাদি। পাশাপাশি রয়েছে লোকালয় ও উচু নিচু টিলার উপরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বসবাস। তাদের জীবনযাপন ও নানান উৎসব আকৃষ্ট করে পর্যটকদের। সারাবছরই নানান অনুষ্ঠানে মেতে উঠেন ক্ষুদ নৃ-গোষ্ঠীর লোকেরা। তবে তাদের প্রধান উৎসবগুলো হয় শীতের শুরুতে।

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর লোকজন জানান চলতি নভেম্বর মাসেই খাসি (খাসিয়া) ও মণিপুরিদের পৃথক ২টি বড় উৎসব রয়েছে। যে উৎসবগুলো দেখতে ভীড় জমান দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা পর্যটক ও স্থানীয়রা।
খাসিয়াদের খাসি সেং কুটস্নেম উৎসব:
খাসিয়া জনগোষ্ঠীর প্রধান উৎসব খাসি সেং কুটস্লেম। এই উৎসবের মধ্য দিয়ে খাসিরা তাদের পুরাতন বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানায়। আগামী ২৩ নভেম্বর খাসিয়া জনগোষ্ঠীর এই 'খাসি সেং কুটস্নেম' উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। কমলগঞ্জ উপজেলার মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জির মাঠে দিনব্যাপী এই উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। উৎসব উপলক্ষে খাসিয়া সোশ্যাল কাউন্সিল বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে ঐতিহ্যগত খেলা, ঐতিহ্যগত পোশাক পরিধান, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, ঐতিহ্যবাহী খাবারসহ আরও অনেক কিছু। মেলায় খাসিয়া জনগোষ্ঠীর মানুষ বসবেন বাহারি পণ্যের পসরা নিয়ে। বিভিন্ন স্টলে খাসিয়াদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক, পান, তীর, ধনুকসহ বাঁশ-বেতের জিনিসপত্র থাকবে। সিলেট বিভাগের ৯০টি খাসিয়া পুঞ্জি থেকে এখানে এসে সবাই উৎসবে যোগ দেবেন।

মণিপুরীদের মহারাস লীলা উৎসব:
নিজস্ব ভাষা, বর্ণমালা, সাহিত্য ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতির দিকে এগিয়ে থাকা মণিপুরীদের প্রধান উৎসব মহারাস লীলা। আগামী ২৭ নভেম্বর সোমবার কমলগঞ্জের মাধবপুরের শিববাজারে (জোড়ামণ্ডপে) ও আদমপুরের তেতইগাঁওয়ে আয়োজন করা হচ্ছে এই উৎসবের। রাস উৎসবের দুটি পর্ব থাকে। দিনের বেলায় রাখালনৃত্য আর রাতে মহারাস। রাখাল নৃত্যে শ্রীকৃষ্ণের শিশুকাল এর নানান লীলা তুলে ধরা হয়। রাতের বেলা শুরু হয় মহারাস লীলা। ভোর অব্দি রাধাকৃষ্ণের নানান কাহিনী ফুটিয়ে তুলেন মণিপুরীরা।

কমলগঞ্জ উপজেলার লেখক ও গবেষক আহমদ সিরাজ বলেন, একটা সময় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর এই উৎসবগুলো তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলো। কিন্তু এখন এই উৎসবগুলোতে সবাই অংশ নেয়। বিশেষ করে মনিপুরিদের মহারাস উৎসব দেখতে মনিপুরি জনগোষ্ঠীর বাহিরের লোকজন বেশি থাকে। সারা দেশ থেকে মানুষ আসেন। অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অনুষ্ঠানেও বাহিরের মানুষ আসেন।

মাধবপুর মণিপুরি মহারাসলীলা সেবা সংঘের সাংঘঠনিক সম্পাদক নির্মল এস পলাশ বলেন, প্রতি বছরের মত ঐতিহ্য ও ধর্মীয় ভাবধারায় ১৮১তম শ্রীকৃষ্ণের মহারাসলীলা ২৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই মহোৎসব উপলক্ষ্যে সবাইকে শুভেচ্ছা জানাই। মণিপুরী সম্প্রদায়ের শ্রীকৃষ্ণের মহারাসলীলা একটি প্রধান ধর্মীয় উৎসব। মণিপুরী সম্প্রদায়ের এই রাসলীলা গভীর ধর্মীয় ভাব আবেগিত ও অন্যদিকে এক নির্মল সংস্কৃতি। এই উৎসব ধর্মনিরপেক্ষতার চেতনা বৃদ্ধি পেয়ে সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় করে তুলেছে বলে আমারা বিশ্বাস রাখি ।

মাধবপুর মণিপুরী মহারাসলীলা সেবা সংঘের সাধারণ সম্পাদক শ্যাম সিংহ বলেন, ‘এবারের রাসোৎসব আমরা বড় পরিসরে আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েছি।