সহযোগিতা চান গাইবান্ধার রোবট বিজ্ঞানী

আপডেট : ৩১ মে ২০২৫, ০২:৫১ পিএম

গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের পশ্চিম কোমরনই গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে কলেজ ছাত্র কাফি ইসলাম লিমন। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহী আগ্রহ জন্মে রোবোটিক্সের প্রতি। স্কুলের এক শিক্ষকের উৎসাহে লিমন অনলাইনে রোবোটিক্সের উপর বিভিন্ন ক্লাস করতে থাকে তখন থেকেই। আর এভাবেই সে হয়ে উঠে এক ক্ষুদে রোবট বিজ্ঞানী।

কয়েক বছর আগে ঢাকায় একটি মার্কেটে আগুন লেগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এ সময় ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আগুনের কাছে গিয়ে আগুন নেভাতে পারছিল না। এই অবস্থা দেখে লিমনের মাথায় প্রথম রোবট তৈরির পরিকল্পনা আসে। মানুষ যেখানে আগুন নিভাতে যেতে পারেনা, একটি রোবটকে সেখানে সহজেই পাঠানো যায়। এই আইডিয়া থেকেই লিমন তৈরি করে তার প্রথম রোবট। নাম দেয় ফায়ার ফাইটার রোবট। এ রোবট খুব কাছ থেকে আগুন নেভাতে পারবে এবং আটকে পড়াদের উদ্ধার করবে। মোবাইলের সাহায্য পরিচালনা করা যাবে রোবটটি।  যা বর্তমানে জেলা পর্যায়, বিভাগীয় পর্যায় পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়েও পুরস্কার লাভ করে।

লিমনের আর একটি বিস্ময়কর আবিষ্কার বন ও প্রকৃতি বাঁচাতে গাছ রক্ষার রোবট। কোনো মানুষ গাছ কাটতে গেলে গাছে লাগানো ডিভাইস চিৎকার করে সকলকে ডাকবে। লিমনের তৈরি এ ডিভাইস গাছে লাগানো থাকলে ওই গাছ কাটতে গেলে কিংবা ফুল বা ফল নেয়ার জন্য স্পর্শ করলে গাছ লাগানো ডিভাইসটি চিৎকার করে কথা বলবে। স্বল্প খরচে তারের মাধ্যমে গাছের সাথে সংযোগ দিলে বন বা বাগানের গাছ ও ফল রক্ষা করা যাবে। লিমনের এ সাফল্য জাতীয় পর্যায় পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায় পর্যন্ত প্রশংসা কুড়িয়েছে।

লিমন তৈরি করছে স্মার্ট হোম কানেকশন ডিভাইস। বাসার বিদ্যুৎ লাইনের সাথে এ স্মার্ট হোম কানেকশন স্থাপন করলে পৃথিবীর যে কোনো প্রান্ত থেকে বিদ্যুৎ ও পানির লাইন অন অফ করা যাবে। এ ডিভাইসে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাসার অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাসহ রয়েছে অনেক আধুনিক সুযোগ সুবিধা।

ক্ষুদে বিজ্ঞানী মো. কাফি ইসলাম লিমন জানান, এসব আবিষ্কার ছাড়াও তিনি তৈরি করেছেন স্মার্ট ডাস্টবিন, স্পাইডারম্যান রোবট, রোবট ঘড়িসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি। আধুনিক বিশ্বের সাথে দেশকে প্রযুক্তিতে এগিয়ে নিতে তার এ চেষ্টা । এসব রোবট তৈরি দেশে বিদেশে অনেক স্বীকৃতি পেয়েছে লিমন। জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মিলেছে একাধিক পুরস্কার। এছাড়াও আন্তর্জাতিক পর্যায়েও দেশের হয়ে কয়েকবার অংশ নিয়েছে লিমন। তার এসব আবিষ্কারে মুগ্ধ এলাকাবাসী। তার গবেষণা ও আবিষ্কারে সরকারি বেসরকারি সহযোগিতার দাবি তাদের।

স্থানীয় বাসিন্দা সুমন মিয়া জানান, সরকারি বে-সরকারিভাবে অথবা কোনো বড় শিল্পকারখানা তার কাজে সহযোগিতা করলে তার এমন কার্যক্রম আরো বাড়ানো সম্ভব।

গাইবান্ধা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহমুদ আল হাসান জানান, কাফি ইসলাম লিমনের বিভিন্ন আবিষ্কার স্থানীয় থেকে জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। তার এ কার্যক্রম গতিশীল রাখতে তাকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।

উল্লেখ্য- স্মার্ট হোম, গাছ রক্ষার রোবট, স্মার্ট ডাস্টবিন, স্পাইডারম্যান রোবট, রোবট ঘড়ি, নারীদের রক্ষায় বৈদ্যুতিক স্যান্ডেলসহ ২০টির অধিক রোবট ও ডিভাইস আবিষ্কার করেছেন লিমন।

SN
আরও পড়ুন