ভাগ্নেকে বাঁচাতে পুকুরে ঝাঁপ, আর ফেরা হলো না মামারও

আপডেট : ২৭ জুন ২০২৬, ০৮:১৫ পিএম

যে বাড়িতে কয়েক দিন আগেই এক মায়ের মৃত্যুতে দোয়া ও মিলাদের আয়োজন হয়েছিল, সেই বাড়িতেই মুহূর্তের মধ্যে নেমে এলো আরও এক হৃদয়বিদারক শোক। ভাগ্নেকে বাঁচাতে নিজের জীবন বাজি রেখে পানিতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন মামা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাউকেই আর জীবিত ফিরিয়ে আনা গেল না। একই পুকুরে পানিতে ডুবে মৃত্যু হলো মামা ও ভাগ্নের।

শনিবার (২৭ জুন) দুপুরের দিকে মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটেছে বরগুনার বামনা উপজেলা সদরের দক্ষিণ আমতলী গ্রামের নাজির বাড়িতে। নিহতরা হলেন, হাফেজ মুহাম্মদ তামিমুল ইসলাম তানভীর (২১) ও তার ভাগ্নে মুহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ(৯)। 

জানা গেছে, তৈয়ব আলী নাজিরের তিন দিন আগে মারা যাওয়া তার রুহের মাগফিরাত কামনায় বাড়িতে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছিল। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের উপস্থিতিতে বাড়ি ছিল মানুষে পরিপূর্ণ। সবাই যখন অনুষ্ঠানের বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত, তখন বাড়ির পাশের পুকুরে গোসল করতে যান তৈয়ব আলী নাজিরের ছেলে মসজিদের ইমাম ও সুবক্তা হাফেজ মুহাম্মদ তামিমুল ইসলাম তানভীর।

তার সঙ্গে গোসল করতে যায় ঢাকার একটি হিফজ মাদরাসার শিক্ষার্থী, তার নয় বছর বয়সী ভাগ্নে মুহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ। সে পূর্ব সফিপুর এলাকার বাসিন্দা হাফেজ গাজী মুহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে।

স্বজনরা ধারণা, গোসলের সময়  ভাগ্নে ওবায়দুল্লাহ হঠাৎ পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করে। ছোট্ট ভাগ্নেকে বাঁচাতে গিয়ে মামাও ডুবে মারা যেতে পারে। তবে তাদের দুজনের কেউই সাঁতার জানতেন না। ফলে ভাগ্নেকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেও পানির নিচে তলিয়ে যান।

দির্ঘ সময় তাদের কোনো সাড়া না পেয়ে বাড়ির লোকজন ছুটে এসে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় দুজনকে পানি থেকে উদ্ধার করে দ্রুত বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

একই পরিবারের দুই সদস্যের এমন করুণ মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। যে বাড়িতে কয়েক ঘণ্টা আগেও মৃত মায়ের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া চলছিল, সেই বাড়িতেই মুহূর্তের ব্যবধানে দুইটি তরতাজা প্রাণ হারানোর ঘটনায় স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

MCH/AHA
আরও পড়ুন