তনু হত্যা মামলা: ১০ বছর পর গ্রেপ্তার সাবেক সেনা কর্মকর্তা রিমান্ডে

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম

বহুল আলোচিত কুমিল্লার সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ১০ বছর পর প্রথমবারের মতো কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত হাফিজুর রহমান সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট অফিসার। বুধবার (২২ এপ্রিল) তাকে কুমিল্লার একটি আদালতে তোলা হলে বিচারক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

পিবিআই (PBI) সূত্র জানায়, বুধবার সকালে রাজধানীর কেরানীগঞ্জের একটি বাসা থেকে হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিকেলে তাঁকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মমিনুল হকের আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হয়। আদালত শুনানি শেষে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তনুর ভাই রুবেল হোসেন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত ৬ এপ্রিল আদালত এই মামলার সন্দেহভাজন তিন ব্যক্তির ডিএনএ ম্যাচিং করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ২০১৬ সালে তনুর ব্যবহৃত কাপড় থেকে যে তিনজনের ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া গিয়েছিল, হাফিজুর রহমান তাদেরই একজন। তিনিসহ সন্দেহভাজন ওই তিন ব্যক্তিই সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু। পরে সেনানিবাসের একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। দীর্ঘ ১০ বছরে থানা পুলিশ, ডিবি ও সিআইডি তদন্ত করলেও কোনো রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি। সর্বশেষ ২০২০ সালে মামলার দায়িত্ব পায় পিবিআই।

মামলার বাদী ও তনুর বাবা ইয়ার হোসেন আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার মেয়ে হত্যার ১০ বছর পার হয়ে গেছে। অনেক লড়াই করেছি। মরার আগে বর্তমান সরকারের কাছে শুধু এই বিচারটুকু দেখে যেতে চাই।’

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আশা করছে, হাফিজুর রহমানকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তনু হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের প্রকৃত রহস্য এবং অন্য জড়িতদের নাম বেরিয়ে আসবে।

FJ
আরও পড়ুন