পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত মিরসরাই-সীতাকুণ্ডের সব ঝরনা

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৩ পিএম

টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণে কয়েক দিন বন্ধ থাকার পর চট্টগ্রামের মিরসরাই ও সীতাকুণ্ড উপজেলার বারৈয়াঢালা ন্যাশনাল পার্কের আওতাধীন সব পর্যটনযোগ্য ঝরনা আবারও দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। আবহাওয়ার উন্নতি এবং ঝরনাগুলোর পানির প্রবাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসায় বন বিভাগ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল থেকেই ঝরনাগুলোতে পর্যটকদের প্রবেশ ও টিকিট বিক্রি স্বাভাবিকভাবে শুরু হয়েছে।

এর আগে সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে বারৈয়াঢালা রেঞ্জ কর্মকর্তা আশরাফুল আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বন বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কয়েক দিনের অতিবৃষ্টিতে পাহাড়ি ঝরনাগুলোতে পানির স্রোত অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। একই সঙ্গে পাহাড়ধসের আশঙ্কাও তৈরি হওয়ায় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সাময়িকভাবে সব ঝরনায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। বর্তমানে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় এবং ঝরনাগুলোর পানির প্রবাহ নিরাপদ পর্যায়ে নেমে আসায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এর আগে গত ৯ জুলাই টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও বিরূপ আবহাওয়ার কারণে পার্কের আওতাধীন সব ঝরনায় অনির্দিষ্টকালের জন্য পর্যটক প্রবেশ বন্ধ ঘোষণা করে বন বিভাগ। এরও আগে ৭ থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত প্রথম দফায় তিন দিনের জন্য প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়ায় সেই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানো হয়।

চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের অধীন বারৈয়াঢালা ন্যাশনাল পার্কে মোট ১১টি ঝরনা রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে ৯টিতে পর্যটন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জনপ্রিয় ঝরনাগুলোর মধ্যে রয়েছে খৈয়াছড়া, নাপিত্তাছড়া, রূপসী, বাওয়াছড়া, সহস্রধারা ও সোনাইছড়া। বর্ষাকালে এসব ঝরনায় দেশজুড়ে ভ্রমণপিপাসু মানুষের ব্যাপক সমাগম ঘটে।

ঝরনাগুলোর ইজারাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স থ্রি বি এন্টারপ্রাইজ-এর শেয়ারহোল্ডার এস. এম. হারুন বলেন, ‘বন বিভাগের নির্দেশনা মেনে এত দিন সব ঝরনায় পর্যটক প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছিল। নতুন নির্দেশনা পাওয়ার পর মঙ্গলবার সকাল থেকে টিকিট বিক্রি ও দর্শনার্থীদের প্রবেশ আবারও চালু করা হয়েছে।‘

বারৈয়াঢালা রেঞ্জ কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, ‘আবহাওয়ার পরিস্থিতির উন্নতি এবং ঝরনাগুলোর পানির প্রবাহ স্বাভাবিক হওয়ায় সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে পর্যটকদের জন্য সব ঝরনা খুলে দেওয়া হয়েছে।‘

তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে অতিবৃষ্টি, পাহাড়ধস বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হলে পর্যটকদের সুরক্ষার স্বার্থে প্রয়োজন অনুযায়ী আবারও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে ইজারাদার প্রতিষ্ঠানকে আগাম সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

MCH
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত