মায়ের হাতেই প্রাণ গেলো মাদকাসক্ত ছেলের

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম

একজন বাবা সন্তানের মাদকাসক্তি থেকে মুক্তি দিতে নিজের সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে লাখ লাখ টাকা খরচ করেছেন। একাধিকবার পাঠিয়েছেন পুনর্বাসন কেন্দ্রে (রিহ্যাব)। একজন মা বছরের পর বছর চেষ্টা করেছেন ছেলেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে। কিন্তু সেই চেষ্টার পরও বদলানো যায়নি ছেলেকে। দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তি ও উত্তেজনার এক করুণ পরিণতিতে শেষ পর্যন্ত বাবা-মায়ের বিরুদ্ধেই উঠেছে ছেলেকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ।

শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে রাঙামাটি শহরের আসামবস্তি এলাকার সিরাজ সওদাগরের ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সাকিবুল ইসলাম (২৫) অটোরিকশাচালক রফিকুল ইসলাম ও গৃহবধূ রাখাই ইসলামের বড় ছেলে।

পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা গেছে, সাকিবুল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। তাকে মাদক থেকে ফিরিয়ে আনতে পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিকবার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। কয়েক মাস আগে তাকে একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি করাতে প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয় করেন তার বাবা। তবে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পরও তিনি আবার মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন বলে পরিবারের দাবি।

স্বজন ও স্থানীয়রা জানায়, মাদকাসক্তির কারণে সাকিবুলের আচরণ ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে পরিবারে প্রায়ই অশান্তি হতো।

থানা ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, মাদক সেবনের পাশাপাশি তিনি মাদক কারবারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডেও জড়িয়ে পড়েছিলেন। এর আগে একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারেও ছিলেন তিনি। পরে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর আবারও আগের কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আজ শনিবার দুপুরে পারিবারিক বিষয় নিয়ে সাকিবুলের সঙ্গে তার বাবা-মায়ের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডায় রূপ নেয়। এ সময় তার মা ধারালো দা দিয়ে ছেলের ঘাড়ে কোপ দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে স্থানীয় অটোরিকশাচালক সাইফুল ইসলাম আহত সাকিবুলকে উদ্ধার করে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ফুয়াদ হাসান জানান, ঘাড়ে গুরুতর কাটা জখম নিয়ে সাকিবুলকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা চলাকালেই তার মৃত্যু হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

রাঙামাটি কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের বাবা-মাকে আটক করেছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা ও দায় নির্ধারণ করা হবে।

তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ, সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি এবং কার আঘাতে সাকিবুলের মৃত্যু হয়েছে এসব বিষয় তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

MCH/AHA
আরও পড়ুন