মাদক নিরাময় কেন্দ্রে যুবকের মৃত্যু, আতঙ্কে পালিয়েছে রোগীরা

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ফুলবাড়িয়া এলাকায় ‘প্রয়াস মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র’-এ চিকিৎসাধীন ফুরকান মিয়া (২৫) নামে এক কাতারপ্রবাসী যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, নিরাময় কেন্দ্রে তাঁকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। তবে কেন্দ্রটির ইনচার্জের দাবি, বাথরুমে পড়ে গিয়ে অসুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ২টার দিকে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। 

বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে প্রয়াস মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র থেকে চিকিৎসাধীন কয়েকজন রোগী আতঙ্কিত হয়ে পালিয়ে যান। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তবে ঘটনার পর কেন্দ্রটির কোনো কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি।

নিহত ফুরকান মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নের কুঁড়িঘর গ্রামের পূর্বপাড়ার রশিদ মিয়ার ছেলে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ আগস্ট রাতে মাদকাসক্তির চিকিৎসার জন্য ফুরকান মিয়াকে ওই কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছিল।

নিহতের মামাতো ভাই মো. আশরাফ অভিযোগ করে বলেন, মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে তিনি প্রয়াসের ইনচার্জ প্রমোদের সঙ্গে ফোনে কথা বলে ফুরকানের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। তখন তাঁকে ভালো আছেন বলে জানানো হয়। পরে বিকেল ৫টার দিকে আবার ফোন করলে একই কথা জানানো হয়। কিন্তু রাত ৯টার দিকে ইনচার্জ প্রমোদ ফোন করে ফুরকানের অবস্থা ভালো নয় জানিয়ে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন।

আশরাফ জানান, সদর হাসপাতালে যাওয়ার পর ইনচার্জ প্রমোদ তাঁদের ফুলবাড়িয়ার প্রয়াস কেন্দ্রে যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, ফুরকান মারা গেছেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ফুরকানের গলা, ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাঁকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলে তাঁদের সন্দেহ। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে প্রয়াস মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের ইনচার্জ প্রমোদ বলেন, মঙ্গলবার রাতে ফুরকান বাথরুমে গিয়ে পড়ে যান। পরে তাঁর বুকে ব্যথা ও প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি চিকিৎসককে জানিয়ে চিকিৎসা শুরু করা হয়। অসুস্থতার কারণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এর বাইরে অন্য কোনো কারণ নেই।

এদিকে ঘটনার পর প্রয়াস কেন্দ্রের অন্যান্য রোগীরা আতঙ্কিত হয়ে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়েও এলাকায় আলোচনা ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় প্রয়াস কেন্দ্রে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার পর প্রয়াস কেন্দ্রের কয়েকজন রোগী আতঙ্কিত হয়ে পালিয়ে গেছেন।

তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

MCH
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত