নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস নদীতে, ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০২৬, ০২:২৩ এএম

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুনে ওঠার সময় সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ১০ জন নারী ও ৪ জন পুরুষ রয়েছেন।

বুধবার (২৫ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ 'হামজা' পানির নিচ থেকে বাসটি টেনে উপরে তুলে আনলে ভেতর থেকে ১২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে বাসটি তলিয়ে যাওয়ার পরপরই স্থানীয়রা আরও দুজনের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন।

এর আগে বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটের দিকে দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় পন্টুন থেকে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মার গভীর জলে তলিয়ে যায়। কুষ্টিয়া থেকে আসা বাসটিতে প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর মাত্র সাতজন যাত্রী কোনোমতে সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হয়েছেন।

রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. এসএম মাসুদ জানিয়েছেন, উদ্ধার অভিযানের এই পর্যায়ে এখন পর্যন্ত ১১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে দুই নারীর মরদেহ শনাক্তের পর গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। তবে নিখোঁজ যাত্রীদের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের কমান্ডার মো. বেলাল উদ্দিন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে প্রায় ৪০ জনের মতো যাত্রী পানির নিচে আটকা পড়েছিলেন। নিখোঁজদের সন্ধানে এখনো ফায়ার সার্ভিস ও কোস্ট গার্ডের ডুবুরি দল যৌথভাবে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে। উদ্ধারকাজে সহায়তা করছে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ দল।

রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা জানান, এ পর্যন্ত মোট ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে এবং নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে প্রায় ৪৫ জন যাত্রী ছিলেন। ফেরিতে ওঠার আগ মুহূর্তে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি নদীতে পড়ে গেলে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এখন পর্যন্ত ১১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও নিখোঁজ যাত্রীদের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

বাসটি উদ্ধার হলেও ভেতরে আরও যাত্রী আটকা পড়ে আছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে উদ্ধারকারীরা জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন। তবে পদ্মার তীব্র স্রোত ও প্রতিকূল পরিবেশের কারণে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনায় বেগ পেতে হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

HN
আরও পড়ুন