ঈদযাত্রা

গাজীপুরে ২০ কিলোমিটার যানজট, বৃষ্টির হানায় ভোগান্তি চরমে

আপডেট : ২৫ মে ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। তবে ঈদযাত্রার শুরুতেই গাজীপুরের দুই মহাসড়কে নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। সোমবার (২৫ মে) বিকেল থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও চন্দ্রা-নবীনগর মহাসড়কে প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। তার ওপর বৃষ্টির বাগড়া এবং পরিবহনগুলোর অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্যে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি এখন চরমে।

হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরের পর গাজীপুরের অধিকাংশ শিল্প-কারখানা ছুটি হওয়ায় মহাসড়কে হঠাৎ যাত্রীদের ঢল নামে। বিকেল সাড়ে ৪টার পর থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কড্ডা থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার এবং চন্দ্রা-নবীনগর মহাসড়কের কবিরপুর থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত আরও ১০ কিলোমিটার সড়কে যানবাহন প্রায় স্থির হয়ে পড়ে।

গাজীপুর ছাড়াও সাভার, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জ এলাকার উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গগামী যাত্রীরা চন্দ্রা ত্রিমোড় দিয়ে যাতায়াত করায় এই পয়েন্টে যানজট সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী, বোর্ডবাজার, ভোগরা ও চৌরাস্তা এলাকাতেও যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

মহাসড়কে যানজটের পাশাপাশি পরিবহন মালিকদের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের উৎসবে সাধারণ মানুষ দিশেহারা। যাত্রীদের অভিযোগ, স্বল্প দূরত্বের পথেও ৫ থেকে ৬ গুণ বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। আশুলিয়ার রপ্তানি এলাকা থেকে চন্দ্রার স্বাভাবিক ভাড়া ২০-৩০ টাকা হলেও আজ আদায় করা হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। এছাড়া উত্তরবঙ্গগামী বাসে সর্বনিম্ন ১ হাজার টাকা এবং টাঙ্গাইলগামী বাসে ৫০০ টাকার নিচে কোনো যাত্রী তোলা হচ্ছে না।

রংপুরগামী এক পোশাক শ্রমিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,‘রপ্তানি থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত ২০ টাকার ভাড়া আজ দিতে হয়েছে ১৫০ টাকা। একদিকে জ্যাম, অন্যদিকে বৃষ্টি- তার ওপর ভাড়ার এই জুলুম দেখার কেউ নেই।’

নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, ‘দুপুরের পর একযোগে অনেক কারখানা ছুটি হওয়ায় মহাসড়কে কয়েক গুণ চাপ বেড়েছে। বৃষ্টি হওয়ায় পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হচ্ছে। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আমাদের হাইওয়ে পুলিশ সদস্যরা প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে কাজ করছেন। এই চাপ সম্ভবত ঈদের আগের দিন পর্যন্ত বজায় থাকবে।’

ভারী বৃষ্টিতে ভিজে এবং দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থেকে ঘরমুখো মানুষের হাসিমুখ এখন ক্লান্ত ও বিষাদগ্রস্ত। রাত বাড়ার সাথে সাথে যানজট আরও বিস্তৃত হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।

FJ
আরও পড়ুন