শীতলক্ষ্যায় রাক্ষুসে সাকার মাছের দাপট, ধ্বংস হচ্ছে দেশি প্রজাতি মাছ

আপডেট : ২৭ জুন ২০২৬, ০৬:১২ পিএম
গাজীপুরের কালীগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর বুকে এখন আর আগের মতো দেশি মাছের ঝাঁক দেখা যায় না। জেলেদের জালে রুই, কাতলা বা টেংরার বদলে উঠছে এক অচেনা, কাঁটাওয়ালা ও ভয়ংকর আকৃতির মাছ-সাকার ফিশ। স্থানীয়দের ভাষায়, এটি যেন নদীর নতুন আতঙ্ক।
 
নদীতে জাল ফেললেই ঝাঁকে ঝাঁকে উঠে আসছে এই ক্ষতিকর মাছ। কখনও হাত দিয়েও ধরা যাচ্ছে, আবার এর ধারালো কাঁটায় আহতও হচ্ছেন জেলেরা। নদীর তীরে বসে কেউ কেউ মাছগুলো বিক্রির চেষ্টা করলেও ক্রেতার দেখা মেলে খুব কম।
 
শীতলক্ষ্যা নদীতে নিয়মিত মাছ ধরেন লিটন মিয়া। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘শিল্পকারখানার বর্জ্যে নদীর পানি নষ্ট হয়ে গেছে। আগের মতো মাছ আর পাওয়া যায় না। গত এক সপ্তাহ ধরে অন্য মাছের আশায় জাল ফেললেও প্রতিদিন ৫ থেকে ২০ কেজি পর্যন্ত সাকার ফিশ উঠছে। কিন্তু এই মাছ কেউ কিনতে চায় না।’
ভাদার্ত্তী দক্ষিণপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সাইফুর রহমান বলেন, ‘এই মাছ ছোট মাছ ও তাদের ডিম খেয়ে ফেলে। এটা সত্যিই রাক্ষুসে মাছ। জেলেদের বেশি বেশি এই মাছ ধরতে উৎসাহ দেওয়া উচিত।’
 
একই গ্রামের আল আমিন সরকার সুমন বলেন, ‘মাছটির চেহারা যেমন ভয়ংকর, তেমনি এর প্রভাবও ভয়াবহ। শীতলক্ষ্যার ছোট মাছ এখন প্রায় হারিয়েই গেছে।’
মনির হোসেন বলেন, ‘নদীর পানি দূষণে এমনিতেই মাছ কমে গেছে। তার ওপর এই সাকার ফিশ অন্য মাছ ধ্বংস করছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে শীতলক্ষ্যার দেশি মাছ হয়তো একদিন গল্প হয়ে যাবে।’
কালীগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু সামা জানান, ‘সাকার ফিশ খাওয়ার উপযোগী নয়। এটি বিদেশি আগ্রাসী প্রজাতি। নদীর অন্যান্য মাছের খাদ্য, ডিম ও জলজ উপাদান খেয়ে ফেলে। ফলে আমাদের জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’
 
তিনি আরও বলেন, এই মাছ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হলেও কার্যকরভাবে দমন করা এখনো সম্ভব হয়নি।
একসময় প্রাণবন্ত শীতলক্ষ্যা আজ যেন নিঃশব্দে হারাচ্ছে তার স্বাভাবিক রূপ। দূষণের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাকার ফিশের আগ্রাসন। জেলেদের জালে যখন বারবার উঠে আসছে এই অনাহূত অতিথি, তখন প্রশ্ন উঠছে-শীতলক্ষ্যার দেশি মাছ কি তবে বিলুপ্তির পথে?
 
নদী বাঁচাতে এবং দেশি মাছের অস্তিত্ব রক্ষায় এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলেরা।
MCH
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত