ফতুল্লায় ব্যবসায়ীকে হত্যা, মূল অভিযুক্ত জাকির গ্রেপ্তার

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার মাসদাইরে বিকাশ ব্যবসায়ী মো. মোতালেব হোসেন (৬১) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনার মূলহোতা জাকিরসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অটোরিকশা, নিহতের বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ক্যাশ আউট করা ৮৬ হাজার টাকা, তিনটি মোবাইল ফোন এবং একটি টিফিন বক্স উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দিবাগত মধ্যরাতে বন্দরের সেলসারদী এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি জাকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে একই দিন সকালে ফতুল্লার মাসদাইর এলাকার জামতলা হাজী ব্রাদার্স রোডের এমপি গলি-সংলগ্ন সড়কের পাশ থেকে লেপ-তোশকে মোড়ানো অবস্থায় মোতালেব হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত মোতালেব হোসেন লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার শিবপুর গ্রামের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ফতুল্লার মাসদাইর গোরস্থান এলাকায় ফারুক মিয়ার জাজিরা টাওয়ারের ষষ্ঠ তলায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। মাসদাইর বাজারে একটি লাইব্রেরির পাশাপাশি বিকাশ এজেন্টের ব্যবসা পরিচালনা করতেন তিনি।

পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধারের পরপরই ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করা হয়। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণ করা হয়।

তদন্তে দেখা যায়, ঘটনার আগে জাকির মোতালেব হোসেনের কাঁধে হাত রেখে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে হাঁটতে তাকে নিজের বাসার দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। ওই সূত্র ধরে মাসদাইর রোকেয়া স্কুলসংলগ্ন জাকিরের বাসায় অভিযান চালিয়ে নিহতের ব্যবহৃত একটি টিফিন বক্স উদ্ধার করা হয়। পরে মাসদাইর এলাকা থেকে ওমর ফারুক (২২) ও সোহেল (৪৯) নামে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে এসআই কাজী শামীম ও এসআই রফিকুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে বন্দর থানার সেলসারদী এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি জাকিরকে গ্রেপ্তার করেন।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাকির হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকাল ৮টা থেকে তিনি রাস্তায় অপেক্ষা করছিলেন। সাড়ে ৮টার দিকে কৌশলে মোতালেবকে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। সেখানে তার বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ৮৬ হাজার টাকা ক্যাশ আউট করা হয়। পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর গভীর রাতে মরদেহ লেপ-তোশকে পেঁচিয়ে একটি অটোরিকশায় করে মাসদাইরের জামতলা হাজী ব্রাদার্স রোডের এমপি গলি-সংলগ্ন সড়কের পাশে ফেলে রেখে আসা হয়। 

এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে সুমনা আক্তার মিম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, বিকাশ অ্যাকাউন্টের টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্যপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণ করে মূলহোতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অটোরিকশা, ৮৬ হাজার টাকা, তিনটি মোবাইল ফোন ও নিহতের টিফিন বক্স উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

AHA
আরও পড়ুন