খামেনির ৭ দিনের রাষ্ট্রীয় জানাজা শুরু আজ

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৬, ১০:৪০ এএম

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সাত দিনের রাষ্ট্রীয় জানাজা, শোকানুষ্ঠান ও শেষকৃত্য আজ (৩ জুলাই) থেকে শুরু হচ্ছে।

আগামী ৯ জুলাই পর্যন্ত ইরান ও ইরাকের একাধিক শহরে এসব ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা ও শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। কয়েক কোটি শোকাহত মানুষের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

খামেনির দাফন প্রথমে মার্চ মাসে নির্ধারিত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় তা স্থগিত করা হয়। ৮৬ বছর বয়সী খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় তাঁর বাসভবনে নিহত হন। ওই হামলায় তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যও নিহত হন।

আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে আলী খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে পাহলভি রাজতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে খোমেনি ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ নেতা হন। বিপ্লবের আদর্শিক নেতৃত্ব খোমেনি দিলেও পরবর্তী সময়ে দেশটির সামরিক ও আধাসামরিক কাঠামো গড়ে তোলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন খামেনি।

এবারের রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য তাঁর উত্তরসূরি ও ছেলে মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হবে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর গত চার মাস ধরে তিনি জনসমক্ষে খুব কমই দেখা দিয়েছেন। এই জানাজা ও শেষকৃত্য তাঁর নেতৃত্বে প্রথম বড় রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান।

আজ ৩ জুলাই রাজধানী তেহরানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের শোকানুষ্ঠানের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতা, জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও আলেমরা সেখানে উপস্থিত হয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন।

৪ ও ৫ জুলাই তেহরানে সাধারণ মানুষের জন্য রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। খামেনি ও তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যের মরদেহ রাজধানীর গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। বৃহৎ এই নামাজ কমপ্লেক্স দীর্ঘদিন ধরে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় সমাবেশ ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

৬ ও ৭ জুলাই তেহরানের বিভিন্ন এলাকা অতিক্রম করে শোকযাত্রা রাজধানী থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত কোম শহরে পৌঁছাবে। কোম ইরানের শিয়া ইসলামি শিক্ষার প্রধান কেন্দ্র এবং দেশের অন্যতম পবিত্র নগরী। এখানে ইরানের বৃহত্তম ধর্মীয় সেমিনারিগুলো অবস্থিত, যেখানে হাজারো আলেম শিক্ষা ও গবেষণা করেন। আলী খামেনিও এখানে অধ্যয়ন করেছিলেন।

৮ জুলাই ইরাকি শহর নাজাফে অবস্থিত নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরান ও ইরাকের কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার আয়োজন করবেন। এরপর নাজাফ ও কারবালায় জনসাধারণের অংশগ্রহণে শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। নাজাফের ইমাম আলী (আ.)–এর মাজার শিয়া মুসলমানদের অন্যতম পবিত্র স্থান। বিশ্বাস করা হয়, সেখানে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর চাচাতো ভাই, জামাতা এবং শিয়া ইসলামের প্রথম ইমাম হজরত আলী ইবনে আবি তালিব (আ.) সমাহিত আছেন। অন্যদিকে কারবালায় ইমাম হুসাইন (আ.) ও তাঁর সৎভাই হজরত আব্বাস (আ.)–এর মাজার শিয়া মুসলমানদের সবচেয়ে পবিত্র স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম। ৬৮০ খ্রিষ্টাব্দে কারবালার যুদ্ধে তাঁদের শাহাদাতের ঘটনাই শিয়া ধর্মীয় ঐতিহ্য ও পরিচয়ের কেন্দ্রীয় ভিত্তি।

সবশেষে ৯ জুলাই খামেনির মরদেহ আবার ইরানে ফিরিয়ে নেওয়া হবে এবং মাশহাদে ইমাম রেজা (আ.)–এর মাজার প্রাঙ্গণে দাফন সম্পন্ন হবে। মাশহাদ ইরানের সবচেয়ে পবিত্র শহর এবং শিয়া ইসলামের অষ্টম ইমাম ইমাম রেজা (আ.)–এর মাজার সেখানে অবস্থিত। ১৯৩৯ সালে মাশহাদেই আলী খামেনির জন্ম। শৈশব ও কৈশোরের বড় একটি সময় তিনি এই শহরে কাটান এবং এখানকার ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা শেষে উচ্চতর শিক্ষার জন্য কোমে যান। শিয়া ইসলামের অন্যতম শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বের মাজারের পাশে তাঁকে দাফন করাকে বিশেষ সম্মান হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ইরানের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক নেতা এবং শীর্ষ ধর্মীয় কর্তৃত্ব—উভয় পরিচয়ের প্রতিফলন বলে বিবেচিত হচ্ছে।

Attr/YA
আরও পড়ুন