মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় খলিশাডহুরা এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ১৭টি ঘর দীর্ঘদিন ধরে ফাঁকা পড়ে রয়েছে। সরকারি উদ্যোগে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য নির্মিত এসব ঘরে এখন আর কোন উপকারভোগীরা বসবাস করে না। যারা বরাদ্ধ পেয়েছেন তারা ঘরগুলো ব্যবহার না করায় প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারগুলো আশ্রয়ের অপেক্ষায় থাকলেও তারা এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন অনেকেই।
আশ্রয়ন প্রকল্পের ১৭টি ঘর বরাদ্দ পেয়েছে যারা তারা সেখানে থাকে না। বরাদ্দ প্রাপ্তদের ঘরগুলো হস্তান্তরের কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও সেখানে বাসিন্দা না থাকায় ঘরের চার পাশ জঙ্গল ঘিরে ধরেছে, ফাঁকা ঘরগুলো বারান্দায় জমা হচ্ছে আবর্জনার স্তূপ, কয়েকটি ঘরের দেয়ালে ফাটল ধরেছে।
রবিবার (৫ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে খলিশাডহুরা আশ্রয়ন প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায়, সাটুরিয়া উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দুরে বরাইদ ইউনিয়নের খলিশাডহুরা এলাকায় আশ্রয়ন প্রকল্পের ১৭টি ঘরের মধ্যে ১৭টি ঘর তালাবদ্ধ। অসহায় ও ভূমিহীন উপকারভোগীদের জন্য গড়া এই আশ্রয়ণ প্রকল্পটিতে চলাচলের রাস্তা, বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবস্থা থাকায় পরেও বরাদ্দ প্রাপ্তদের কেও থাকছে না।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সঠিক ভাবে যাচাই বাছাই না করেই ঘরে বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ কারণে প্রকল্প এলাকার আশেপাশে ভূমিহীন ও দরিদ্র পরিবার থাকলেও তারা বরাদ্দ পাইনি । যাদের নামে ঘর বরাদ্দ হয়েছে তারা প্রকল্প এলাকা থেকে প্রায় ১২ থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে বালিয়াটি ইউনিয়নের বালিয়াটি, হাজীপুর ও খলিলাবাদ গ্রামের বাসিন্দারা।
বরাদ্দপাওয়া কয়েক জন জানায়, তারা কাজ অথবা ব্যবসা করে বালিয়াটি এলাকায়। প্রতিদিন কাজ করে ১২ কিলোমিটার দুরে থেকে আসা যাওয়া করে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘরে থাকা তাদের জন্য সম্ভব না। তাই তারা বরাদ্দ পাওয়ার পরেও সেখানে যায় নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, বরাদ্দ পাওয়ার পর জমি সহ ঘর বিক্রি করার পরিকল্পনা করে অনেকেই টাকার বিনিময়ে ঘর বরাদ্দ নিয়েছেন। কিন্তু বরাদ্দ পাওয়ার পর তা বিক্রি করতে না পেরে জমিসহ ঘর ফেলে রেখেছে।
খলিশাডহুরা এলাকার শাহানাজ (৪৫) বলেন, মানুষ না থাকায় ঘরগুলোর বারান্দায় এলাকার লোকজন ট্রাক্টর, মাটি, গোবর, ভূট্রার গাছসহ নানা কিছু রেখেছে ফলে ঘরগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো: রমজান আলী বলেন, আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘরগুলো জঙ্গলে ঢাকা পড়েছে। বরাদ্দ পাওয়ার পর জমি সহ ঘর বিক্রি করার পরিকল্পনা করে, কিন্তু বরাদ্দ পাওয়ার পর তা বিক্রি করতে না পেরে জমিসহ ঘর ফেলে রেখেছে। এলাকার অনেক ভুমিহীন লোক রয়েছে তাদের ঘরগুলো বরাদ্ধ দেবার জন্য কয়েকবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছি কিন্তু কোন কাজ হয় নি।
সাটুরিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা খলিলুর রহমান মোল্লাহ বলেন, খলিশাডহুরা এলাকায় আশ্রয়ন প্রকল্পটি পরিদর্শন করে দেখেছি সেখানের সবকয়টি ঘর তালা দেওয়া, প্রকল্পের ১৭টি ঘরেই কেও থাকে না।
সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম বলেন, আশ্রয়ন প্রকল্পের যে ঘর গুলোতে বরাদ্দপ্রাপ্তরা থাকছে না সেগুলো তাদের যে দলিল করে দেওয়া হয়েছে তা বাতিল না করলে অন্যদের বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব না। বরাদ্দ প্রাপ্ত যারা থাকছে না তাদের নোটিশ করবো, কেন তারা থাকছেন না।
ঝিনাইদহে ১৭ ইউনিয়নের কৃষকদের মাঝে স্প্রে মেশিন বিতরণ
নারায়ণগঞ্জে ছিনতাইকারী সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যা
রাঙামাটিতে আওয়ামী লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
তুরাগ নদীতে গোসলে নেমে দুই স্কুলছাত্রের মৃত্যু