পথে হেঁটে যাওয়ার সময় স্কুলছাত্রীকে পেছন থেকে লাথি মারার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর অভিযুক্ত কিশোরের শাস্তির দাবি উঠলেও অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার শিকার ওই স্কুলছাত্রীকেই উল্টো বিদ্যালয় থেকে টিসি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ের ওয়াকওয়েতে প্রায় এক মাস আগে ঘটনাটি ঘটে বলে জানা গেছে। গত ৬ জুলাই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, স্কুলের পোশাক পরা দুই শিক্ষার্থী শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ের ওয়াকওয়ে দিয়ে হাঁটছিল। এ সময় পেছন থেকে এক কিশোর তাদের একজনকে লাথি মারে। লাথির প্রতিবাদ করলে ওই শিক্ষার্থীকে আবারও পেছন থেকে লাথি মারা হয়। এ সময় ঘটনাটি মুঠোফোনে ধারণ করেন কেউ একজন। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী কাঁচপুর ইউনিয়নের উত্তরপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। ভিডিওতে থাকা অভিযুক্ত কিশোরের নাম দিলসাদ হোসেন। সে কাঁচপুরের রায়েরটেক এলাকায় ভাড়া থাকা রিকশাচালক সাফিউল ইসলামের ছেলে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে কাঁচপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ের ওয়াকওয়ের পাশে কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ ও সপ্তম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী হাঁটছিল। তখন আনুমানিক ১১ থেকে ১২ বছর বয়সী দিলসাদ পেছন থেকে এক শিক্ষার্থীকে পরপর লাথি মারে। ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হলেও এতদিন পর সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর বাবা বলেন, আমার মেয়েকে লাথি মারার ভাইরাল ভিডিওটি আরও এক মাস আগের। স্কুল চলাকালে স্কুলের বাইরে ঘোরাফেরার করার অভিযোগে স্কুলের স্যাররা বিচার করে আমার মেয়েকে টিসি দিয়ে বের করে দিয়েছে। তবে বখাটে ছেলেকে কি বিচার করেছে তা আমার জানা নেই।
তিনি বলেন, আমরা গরীব মানুষ। অল্প উপার্জনের কর্ম করে খাই। এখন এই স্কুলে পড়তে পারবো না। মেয়েকে অন্য স্কুলে ভর্তি করতে হবে।
তবে কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন সরকারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, দুই শিক্ষার্থী বিভিন্ন সময়ে স্কুলে না এসে বাইরে ঘোরাঘুরি করত। তাদের একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর দুই শিক্ষার্থীর পরিবারকে ভবিষ্যতে এমন করলে টিসি দেয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। তাদের কাউকেই বহিষ্কার করা হয়নি।
সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, ভাইরাল ভিডিও আমাদের নজরে এসেছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
লক্ষ্মীপুরে আগুনে পুড়ল ৯ দোকান
রংপুর-লালমনিরহাট রুটে রেল চলাচল বন্ধ
হবিগঞ্জ সীমান্তে কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ
পাকুন্দিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২