ফলোআপ

২৬ ঘণ্টা পর লঞ্চ থেকে পড়ে যাওয়া যুবকের মরদেহ উদ্ধার

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২২ পিএম

চাঁদপুরের মতলব উত্তরের ষাটনল লঞ্চঘাটে লঞ্চ থেকে মেঘনা নদীতে পড়ে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২৬ ঘণ্টা পর রবিন (৩২) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। 

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে দীর্ঘ তল্লাশি শেষে ষাটনল লঞ্চঘাটের পাশের মেঘনা নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেন বিআইডব্লিউটিএ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা।

এর আগে শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুরগামী ‘মুকবিল-২’ লঞ্চটি ষাটনল লঞ্চঘাটে ভিড়লে পন্টুনে নামার সময় নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন রবিন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লঞ্চ থেকে নামার পর নিজের ব্যাগটি লঞ্চে রেখে আসার কথা মনে পড়ে আবার ভেতরে ওঠেন রবিন। পরে তিনি ফের নামতে গেলে লঞ্চটি পেছনের দিকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। এ সময় ঘাটে লাফ দিয়ে নামার চেষ্টা করলে ভারসাম্য হারিয়ে মেঘনায় পড়ে যান তিনি।

ঘটনার পর ‘মুকবিল-২’ লঞ্চটি দ্রুত মোহনপুর লঞ্চঘাটের দিকে চলে যায়। পরে মোহনপুর নৌ-পুলিশ লঞ্চটি জব্দ করে। এ ঘটনায় লঞ্চটির মাস্টার মতলব উত্তরের তাতুয়া গ্রামের মনির হোসেন (৫০) এবং গ্রিজার দাউদকান্দির বালিয়াধন গ্রামের মো. সুমনকে (২৭) আটক করা হয়।

রবিন নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে বেলতলী নৌ-পুলিশ, মোহনপুর নৌ-পুলিশ ও মতলব উত্তর থানা-পুলিশ স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রথমে নদীতে তল্লাশি শুরু করে। পরে চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান জোরদার করে।

এদিকে রবিনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয় তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যাগের মাধ্যমে। নদীতে ভাসমান অবস্থায় ব্যাগটি পাওয়ার পর এর ভেতরে থাকা মোবাইল ফোনের সিমকার্ড অন্য ফোনে দিয়ে বেলতলী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি থেকে যোগাযোগ করা হয়। ফোনটি রিসিভ করেন রবিনের স্ত্রী নাসরিন আক্তার। তিনি নম্বরটি তাঁর স্বামীর বলে নিশ্চিত করেন।

স্বামী নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে ষাটনল লঞ্চঘাটে ছুটে আসেন নাসরিন। স্বামীর সন্ধানে এক দিন ধরে ঘাটে অপেক্ষা করেন তিনি। মরদেহ উদ্ধারের আগে আহাজারি করে নাসরিন বলেন, ‘আমার এহন কী অইবো, আমার মাইয়্যা আয়ান কে দেখবো? কেউ কি সাথে সাথে উঠাইতে পারলেন না?’

পরিবার সূত্রে জানা যায়, রবিনের জন্মস্থান শরীয়তপুর। তিনি নারায়ণগঞ্জে মা-বাবার সঙ্গে থাকতেন। তাঁর শ্বশুরবাড়ি মতলব উত্তর উপজেলার বাগানবাড়ী ইউনিয়নের নবীপুর গ্রামের মোল্লা বাড়িতে। রবিন ও নাসরিন দম্পতির সাড়ে চার বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

এ ঘটনায় রবিনের স্ত্রী নাসরিন আক্তার মামলা দায়েরের জন্য এজাহার দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বেলতলী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক পিপিএম।

খবর পেয়ে ষাটনল লঞ্চঘাট পরিদর্শন করেন মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি। তিনি নৌ-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সঙ্গে কথা বলে উদ্ধার কার্যক্রমের খোঁজ নেন এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের উদ্যোগ নেন।

চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক সঞ্জয় দেবনাথ বলেন, খবর পাওয়ার পর ডুবুরি দল নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। নদীর স্রোতের কারণে ভাটির দিকেও তল্লাশি চালানো হয়।

চাঁদপুর নদী ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার মো. রাকিবুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পর ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। আবহাওয়া ও নদীর পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সতর্কতার সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অবশেষে প্রায় ২৬ ঘণ্টার তল্লাশি শেষে শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ষাটনল লঞ্চঘাটের পাশের মেঘনা নদী থেকে রবিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘাটে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্ত্রী নাসরিন ও স্বজনরা।

এমসিএইচ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত