ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। বিভিন্ন অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসছে এসব সম্পদের ফিরিস্তি। তাতে দেখা যায়, বেনজীর সবচেয়ে বেশি জমি কিনেছেন নিজ জেলা গোপালগঞ্জে। গোপালগঞ্জ সদরের বৈরাগীটোল গ্রামে ৬২১ বিঘা জমির ওপর বেনজীর গড়ে তুলেছেন আলিশান সাভানা ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড ন্যাচারাল পার্ক। আদালতের নির্দেশে সেই পার্কের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে জেলা প্রশাসন।
শুক্রবার (৭ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে পার্কের প্রধান ফটকের পাশে মাইকিং করে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যৌথভাবে এ ঘোষণা দেয়। ফলে আদালতের নির্দেশে আজ শনিবার থেকে পার্কের কর্তৃত্ব থাকবে জেলা প্রশাসনের হাতে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাবলী শবনম সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে আমি আদেশ কার্যকর করার জন্য এখানে উপস্থিত হয়েছি এবং আদেশ কার্যকর করা হয়েছে। এখন থেকে এ সম্পত্তির তত্ত্বাবধায়ক জেলা প্রশাসক।
একই ভাষ্য দুদক গোপালগঞ্জ কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমানের। তিনি বলেন, সাভানা ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড ন্যাচারাল পার্কের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির তালিকা প্রস্তুত করা হবে ও সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হবে। এর পর থেকে জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় পার্কের সব কার্যক্রম চালু থাকবে। আয়-ব্যয়সহ জনবল নিয়োগ ও দর্শনার্থী প্রবেশের বিষয়ে সব সিদ্ধান্ত নেবেন জেলা প্রশাসক।
শুক্রবার রাতে পার্কের দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণার সময় স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হন। এ সময় অনেককে উল্লাস করতে দেখা যায়। বাদল বল (৫০) নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘ডিসি স্যার পার্কের দায়িত্ব নেওয়ায় আমরা অনেক খুশি। আমরা আশা করি সরকারি রাস্তা দিয়ে আমরা আমাদের জমি ও পুকুরে যেতে পারব।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৫ থেকে ২০২০ সালে র্যাবের মহাপরিচালক এবং ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত আইজিপি থাকার সময়ে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বৈরাগীটোল গ্রামে কয়েক শ বিঘা জমি কিনেন। দুদকের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, জমির পরিমান ৬২১ বিঘা। সেই জমির ওপর বেনজীর গড়ে তোলেন সাভানা ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড ন্যাচারাল পার্ক।
এ রিসোর্ট ও পার্কের সব জমি হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের। তাঁদের ভাষ্য, ভয় দেখিয়ে, জোর করে ও নানা কৌশলে জমি কেনা হলেও অনেক জমি দখল করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে দুদক তদন্ত শুরু করে। পরে আদালত সাভানা ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড ন্যাচারাল পার্কসহ বিভিন্ন স্থাপনা জব্দের নির্দেশ দেন আদালত।
