মাদারীপুরে তিন খুন: পুরুষ শূন্য কালকিনি

খাসেরহাট বাজারের মুদি দোকানী আলী আশরাফ বলেন, ‘বেচাবিক্রিও কমে গেছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বের হচ্ছে না। অনেকেই এলাকা ছাড়া।’

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০২৪, ০২:১০ পিএম

মাদারীপুরের কালকিনির বাঁশগাড়ি ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুগ্রুপের সংঘর্ষে বাবা ছেলেসহ তিনজন নিহতের ঘটনায় এলাকাটি পুরুষ শূন্য হয়ে পড়ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে লোক সমাগম কমে এলাকায় বিরাজ করছে থমথমে পরিস্থিতি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, তিন খুনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করতে মাঠে পর্যায়ে পুলিশ, র‌্যাব ও সেনাবাহিনী সদস্যর টল দিতে দেখা গেছে। দোষীকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছে তারা।

খাসেরহাট বাজারের মুদি দোকানী আলী আশরাফ বলেন, ‘বেচাবিক্রিও কমে গেছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বের হচ্ছে না। অনেকেই এলাকা ছাড়া।’

 

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছেন পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ আব্দল মাবুদ। ছবি: খবর সংযোগ

নিহত আতাউর রহমান আক্তার শিকদারের বাবা মতিন শিকদার বলেন, ‘আমাদের বাড়ী-ঘর কয়েকদিন আগে সুমন চেয়ারম্যানের লোকজন পুড়ে দিয়েছিল। সেই পোড়া বাড়ি দেখে ঢাকা থেকে আমার ছেলে আক্তার ও নাতি মারুফ আসছিল। তাদের ওপর হামলা করে নির্মমভাবে হত্যা করেছে সুমন ও তার লোকজন। আমার আর কোনো ছেলেও নাই, নাতিও নাই। আমার পুরো বংশ শেষ করে দিল।’

ঘটনার পর থেকে চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান সুমন ও তার ভাই রাজন বেপারীপলাত। তাদের ঘরে তালা ঝুলছে।

এদিকে, শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ আব্দল মাবুদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এসময় প্রত্যক্ষদর্শী, ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে ন্যায়বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস দিয়ে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেন তিনি। তাছাড়া প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্যে জেলার পুলিশ সুপার মো. সাইফুজ্জামানকে নির্দেশ দেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার সাইফুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলমসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে পুলিশ সদস্য। ছবি: খবর সংযোগ

 

 

তিনি বলেন,‘ঘটনাটিকে অতি গুরুত্বপূর্ণ। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এভাবে তিন জনকে মর্মান্তিকভাবে হত্যা করা কোনভাবেই কাম্য নয়। হেড কোয়ার্টাস থেকে বিষয়টি মনিটারিং করা হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে বিষয়টি অনুধাবনের জন্যে আসা হয়েছে। আপাতত চেয়ারম্যান সুমন  ও মেম্বার আক্তারের মধ্যে দীর্ঘ দিনের ঝামেলা কারণ বলে মনে হচ্ছে। তারপরেও তদন্ত করে স্পষ্ট হওয়া যাবে।’

গত ২৮ ডিসেম্বর আধিপত্য বিস্তার আর স্থানীয় দ্বন্দ্বের জেরে শুক্রবার মাদারীপুরের বাঁশগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারসহ তিনজনকে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে প্রতিপক্ষের লোকজন।

 

RA
আরও পড়ুন