কদর ফুরিয়েছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকির

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২৫, ০১:৫৫ পিএম
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার জনপদ থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী চাল ছাঁটার ঢেঁকি। এক সময়  গ্রামের তরুণী, নববধূ, কৃষাণীদের কণ্ঠে “ও ধান ভানি রে ঢেঁকিতে পার দিয়া, ঢেঁকি নাচে আমিও নাচি হেলিয়া দুলিয়া ও ধান ভানি রে” এ রকম গান এখন আর শোনা যায় না।
 
বিভিন্ন ধরনের যন্ত্র আবিষ্কারের সাথে সাথে সেসব পুরোনো ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে। কালের বিবর্তনে ঢেঁকি এখন শুধু ঐতিহ্যের স্মৃতি বহন করে। দিন দিন ঢেঁকি শিল্প বিলুপ্ত হলেও একে সংরক্ষণের কোন উদ্যোগ নেই।

আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি আগের মতো এখন আর চোখে পড়ে না। একসময় ঢেঁকি ছিল গ্রামীণ জনপদে চাল ও চালের গুঁড়া তৈরির একমাত্র মাধ্যম। অগ্রহায়ণ-পৌষ মাসে কৃষক ধান কাটার সঙ্গে সঙ্গে কৃষাণীদের ঘরে ধান থেকে নতুন চাল ও চালের গুঁড়া করার ধুম পড়ে যেত। সে চাল দিয়ে তৈরি করা হতো পিঠা-পুলি, ফিরনি, পায়েস।
এছাড়া নবান্ন উৎসব, বিয়ে, ঈদ ও পূঁজোয় ঢেঁকিতে ধান ভেনে চালের গুঁড়া তৈরি করা হতো। তখন গৃহবধূরা ঢেঁকিতে কাজ করতেন রাত থেকে ভোর পর্যন্ত।

ঢেঁকিছাঁটা আউশ চালের পান্তা ভাত খেতে খুব স্বাদ হতো। একসময় মানুষ ঢেঁকিতে ধান ও চাল দিয়ে চিড়া তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করতো। ঢেঁকির ধুপধাপ শব্দে মুখরিত ছিল নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের জনপদ। কিন্তু এখন ঢেঁকির সেই শব্দ আর শোনা যায় না।

বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়ায় কোথাও ঢেঁকির শব্দ নেই। ফলে বিলুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জনপদের ঐতিহ্যবাহী কাঠের তৈরি ঢেঁকি নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থেকে। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে যেখানে বিদ্যুৎ নেই, সেখানেও ঢেঁকির ব্যবহার কমেছে। গ্রামীণ ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে কেউ কেউ বাড়িতে ঢেঁকি রাখলেও তা ব্যবহার করছে না।

কলাগাছিয়া গ্রামের শতবর্ষী বৃদ্ধ সোনামিয়া বলেন, আগে ঢেঁকি শিল্পের বেশ কদর ছিল। তেল বা বিদ্যুৎ চালিত মেশিন দিয়ে ধান ও চাল ভানার কারণে ঢেঁকি আজ কদরহীন।
NJ
আরও পড়ুন