আক্কেলপুরে হোটেলে নাশতার সময় পাঁচ লাখ টাকা উধাও, আটক ৪

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে হোটেলে নাশতা করতে গিয়ে পাঁচ লাখ টাকা হারানোর অভিযোগ করেছেন এক ধান ব্যবসায়ী। নাশতা শেষে মাত্র এক মিনিটের মধ্যে টাকার ব্যাগটি খুঁজে না পাওয়ার দাবি করেছেন তিনি। এ ঘটনায় হোটেলের নারী ক্যাশিয়ারসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকালে আক্কেলপুর শহরের উপজেলা পরিষদের ২ নম্বর গেটের সামনে এস এম হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগকারী লিটন হোসেন বগুড়ার শেরপুর এলাকার ধান ব্যবসায়ী। তিনি জানান, ট্রাকচালক আলম হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে নওগাঁর ধামইরহাটে ধান কিনতে যাচ্ছিলেন। পথে আক্কেলপুরের ওই হোটেলে নাশতার জন্য থামেন। ধান কেনার জন্য তাঁর সঙ্গে নগদ পাঁচ লাখ টাকা ছিল।

লিটন হোসেনের ভাষ্য, নাশতার সময় টাকার ব্যাগটি পাশের একটি চেয়ারে রেখেছিলেন। খাওয়া শেষে বিল পরিশোধ করে তিনি পাশের একটি দোকানে চা খেতে যান। প্রায় এক মিনিট পর ব্যাগটির কথা মনে পড়লে দ্রুত হোটেলে ফিরে দেখেন, চেয়ার থেকে ব্যাগটি নেই। এ সময় ক্যাশে থাকা নারী কর্মীকেও সেখানে পাওয়া যায়নি। তাঁর দাবি, ওই সময় বাইরে থেকে কোনো ব্যক্তি হোটেলে প্রবেশ করেননি।

ঘটনাটি হোটেল মালিকের স্ত্রী ও কর্মচারীদের জানানো হলে তারা টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

ট্রাকচালক আলম হোসেন বলেন, লিটন ভাই নাশতার সময় পাশের চেয়ারে টাকার ব্যাগ রেখেছিলেন। আমি আগে বের হয়ে পাশের একটি চায়ের দোকানে বসি। পরে লিটন সেখানে এলে ব্যাগের কথা মনে করিয়ে দিই। তিনি দ্রুত হোটেলে ফিরে গিয়ে দেখতে পান ব্যাগটি নেই। এত অল্প সময়ের মধ্যে ব্যাগটি কীভাবে উধাও হলো, তা হোটেল কর্তৃপক্ষ বা কর্মচারীরা স্পষ্ট করতে পারেননি।

খবর পেয়ে আক্কেলপুর থানা পুলিশ হোটেলে গিয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নারী ক্যাশিয়ার মাহফুজা খাতুন (৫০), তাঁর ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩২) এবং হোটেলের দুই কর্মচারী মিন্টু (৪০) ও আবিদকে (৩০) থানায় নেওয়া হয়।

হোটেল মালিক সোলাইমান আলী বলেন, ছুটির দিন হওয়ায় সকালে হোটেলে কিছুটা ভিড় ছিল। তিনি তাঁর স্ত্রীকে ক্যাশে রেখে বাজারে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে পুলিশকে দেখতে পান। হোটেলের কারও কাছ থেকে টাকা পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি হোটেলের ভেতরে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরাও নেই।

আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাসুদ বলেন, পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে থানায় নেওয়া ব্যক্তিদের বক্তব্যে কিছু অসংগতি পাওয়া গেছে। তবে তারা এখনো টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেননি। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এমইউ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত