ময়লার পচা গন্ধে দুর্ভোগে নীলফামারী পৌরবাসী

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০১:৪৫ পিএম

নীলফামারীর জলঢাকা পৌর শহর যেন ময়লার ভাগাড়। শহরের এখানে সেখানে ফেলা হচ্ছে ময়লা। ময়লার স্তূপের দুর্গন্ধ দুর্ভোগে পড়েছেন পৌরবাসী। এ ছাড়া মশামাছির উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় শিশু ও বৃদ্ধসহ সব বয়সি মানুষ পড়েছেন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। 

স্থানীয়রা জানান, ভূমি কার্যালয়ের সামনে, ট্রাফিক মোড় ও ডালিয়া রোডের আল আকসা মডেল মাদ্রাসার সামনে গড়ে উঠেছে ময়লার ভাগাড়। রাস্তার পাশে এভাবে ময়লা ফেলে রাখায় দুর্গন্ধে নাক চেপে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারীদের। 

সরেজমিনে দেখা যায়, শহরজুড়ে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। নির্দিষ্ট ডাস্টবিন কিংবা স্থান নেই। বাসাবাড়ির আবর্জনা পলিথিনে ভরে গেটের সামনে রেখে দিচ্ছেন বাসিন্দারা। পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সেগুলো সংগ্রহ করে শহরের বিভিন্ন সড়কের পাশে ফেলছেন।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২৯ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে লক্ষাধিক মানুষ বসবাস করেন। এই জনগোষ্ঠীর জন্য আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করতে তিন একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। তবে ওই জমিতে ময়লা ফেলার উপযোগী এখনো হয়নি। সেখানে কাজ চলছে। 

পৌর এলাকার মিনাল হোসেন জানান, পৌর শহরজুড়ে ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট কোনো জায়গা নেই। পৌর কর্তৃপক্ষ ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট স্থানের ব্যবস্থা করলে যত্রতত্র ময়লা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানেই ময়লা ফেলা হতো। 

পৌরসভার বাসিন্দা রোকছানা বেগম জানান, বাসাবাড়ির সামনে ময়লার স্তূপ জমছে। সারাদিন ময়লা জমিয়ে রাখার পর পৌরসভার লোকজন এসে সেগুলো নিয়ে আবার কিছুটা দূরে রাস্তার পাশে স্তূপ করে রাখছে।

রফিকুল ইসলাম নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ময়লা ফেলা নিষেধ ব্যানার টাঙিয়ে দিয়েছি, তবু মানুষ এসে ময়লা ফেলছে। পৌর কর্তৃপক্ষ যতক্ষণ নির্দিষ্ট স্থান তৈরি না করবে, ততক্ষণ দুর্ভোগ শেষ হবে না। 

জলঢাকা পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী এস এম আলেকজান্ডার জানান, পৌর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য তিন একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত সেই জায়গাটি ময়লা ফেলার উপযোগী করা সম্ভব হয়নি। তবে দ্রুত আধুনিক উপায়ে সেখানে কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি জানান, পৌর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ইতঃপূর্বে যেসব ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়েছিল, তার কিছু নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন অর্থবছরে আবারও ডাস্টবিন বসানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া যেসব জায়গায় যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা পড়ে আছে, সেগুলো দ্রুত পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি পৌরবাসীকে সচেতন করতে মাইকিং করা হবে। নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার জন্য ডাস্টবিনগুলোতে রং করে দৃষ্টি আকর্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

MCH/YA
আরও পড়ুন