গাইবান্ধায় প্রত্যান্ত গ্রামে চিকিৎসা দিচ্ছে রোবট ডা. নীলা

আপডেট : ২১ জুন ২০২৫, ০৫:০০ পিএম

গাইবান্ধায় প্রত্যান্ত গ্রামে চিকিৎসা দিচ্ছে রোবট ডা. নীলা। রোবট চিকিৎসক ডা. নীলা প্রথম সাক্ষাতে রোগীর সাথে হাত মেলাচ্ছেন তারপর রোগীর নাম ও রোগের ধরন জিজ্ঞেস করে দিচ্ছেন চিকিৎসা। মনোযোগ দিয়ে শুনছেন রোগীর রোগের বিবরন। 

গাইবান্ধার পলাশবাড়ি উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়নের কলেজ পড়য়া শিক্ষার্থী মো. সামিউল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে এমন চিত্রই দেখা যায়। কম খরচে অভিনব সব যন্ত্র আবিষ্কার করে জেলা জুড়ে ইতিমধ্যে আলোচনা উঠেছেন তিনি ।

সামিউল সম্প্রতি তৈরি করেছেন একটি রোবট চিকিৎসক। যার নাম দিয়েছেন ডা. নীলা। একজন মানুষ চিকিৎসকের মতো ডা. নীলা চিকিৎসা দিচ্ছেন গ্রামের মানুষদের। স্বাভাবিক চিকিৎসকের মতো জিজ্ঞেস করছেন রোগীর নাম ও রোগ। দিচ্ছেন সেই অনুযায়ী ওষুধসহ যাবতীয় পরামর্শ।

প্রত্যান্ত গ্রামে হাতের কাছে বিনামূল্য অত্যাধুনিক চিকিৎসা সেবা পাওয়ায় খুশি স্থানীয়রা। বিভিন্ন এলাকা থেকে ডা. নীলাকে দেখতে ও চিকিৎসা সেবা নিতে আসছেন মানুষ। সামিউলের এমন অভিনব আবিস্কারের সাফল্যে খুশি ও গর্বিত তার পরিবার ও স্থানীয়রা। স্বল্প খরচে অতি প্রয়োজনীয় ও সময় উপযোগি বিভিন্ন আবিস্কারে তাকে সরকারি-বে-সরকারি সহযোগিতা করলে দেশ ও জন মানুষের উপকার হবে বলে জানান তারা।

সামিউল ইসলামের বাবা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, সামিউল মানুষের প্রয়োজনীয় দামি যন্ত্র কম দামে বানানোর চেষ্টা করে আসছে। ইতমধ্যে বেশকিছু যন্ত্র আবিস্কার করেছে। ছেলের এমন আবিস্কারে সার্বিক সহযোগিতা করেন তিনি। ছেলের তৈরি ডা. নীলা গ্রামের মানুষদের বিনামূল্য সেবা দিচ্ছে এতে বাবা হিসাবে তিনি অনেক খুশি।

স্থানীয় বাসিন্দা দুলাল মিয়া জানান, গ্রামের মানুষ বাড়ি থেকে বিশ্ব মানের চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে। এ রকম রোবট বানাতে সরকারি বে-সরকারি সহযোগিতা পেলে চিকিৎসা সেবায় অনেক পরির্বতন আসবে।

মো. সামিউল ইসলাম জানান, চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন থাকলেও তা না হতে পেরে মানুষের সেবায় চিকিৎসক রোবট বানিয়েছেন তিনি। এই রোবট চিকিৎসক মানুষের জ্বর, ডায়াবেটিস পরিমাপসহ সব ধরনের চিকিৎসা দিবে। ২০টির অধিক বিভিন্ন রোগের পরিক্ষা-নিরিক্ষাসহ রোগীকে দিবে চিকিৎসা সেবা।

সামিউল মহদীপুর ইউনিয়নের পূর্ব গোপালপুর গ্রামের মো. শফিকুল ইসলামের ছেলে। বর্তমানে ঢাকার ইষ্টার্ন ইউনিভারসিটিতে ইলেট্রিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং এ বিএসসিতে পড়ালেখা করছেন।

বাজারে দামের চেয়ে অধিক কম খরচে ও তেল, বিদ্যুৎ ছাড়া সৌর শক্তি এবং কায়িক শ্রমকে কাজে লাগিয়ে সাশ্রয়ী মূল্য মানুষের প্রয়োজনীয় প্রায় ৩০টি যন্ত্র বা ডিভাইস ইতিমধ্যে তৈরি করেছেন তিনি।

AA/AHA
আরও পড়ুন