রামিসা হত্যা মামলা

আদালতে আনা-নেওয়ার সময় সোহেল রানার কথা বলায় নিষেধাজ্ঞা

আপডেট : ০২ জুন ২০২৬, ১২:৫৭ পিএম

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন-এর আদালতে মামলার বাদী ও ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার জবানবন্দির মধ্য দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আসামি কাস্টডিতে থাকা অবস্থায় বিচারকের সামনে বা তার অনুমতি ছাড়া কথা বলার এখতিয়ার নেই। অথচ প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে আনা-নেওয়ার সময় বিভিন্ন মন্তব্য করছেন, যা গণমাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে। এতে মামলার বিচার কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে এবং মামলাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার অপচেষ্টা হতে পারে। এ অবস্থায় আসামিদের আদালতে তোলা ও নামানোর সময় তারা যেন কথা বলতে না পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আদালতের প্রতি আবেদন জানান তিনি।

আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে আসামি যাতে আদালতে তোলা, নামানোর সময় কথা বলতে না পারে সেটা নিশ্চিতে পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

এদিন সকালে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এবং অপর আসামি স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, সাক্ষ্যগ্রহণের এ পর্যায়ে ম্যাজিস্ট্রেট, চিকিৎসক, আলামত সংগ্রহকারী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বাসিন্দাসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে। রাষ্ট্রপক্ষ মামলায় মোট ১৭ জনকে সাক্ষী করেছে।

এর আগে সোমবার আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার বাদীসহ ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান গত ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন এবং একই দিনে ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নেয়।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, রামিসা স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত ১৯ মে সকালে ঘর থেকে বের হওয়ার পর তাকে কৌশলে নিজ কক্ষে ডেকে নেন আসামি স্বপ্না আক্তার। পরে শিশুটিকে খুঁজতে গিয়ে তার বাবা-মা ও প্রতিবেশীরা আসামির কক্ষের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে স্বপ্না আক্তারকে হেফাজতে নেওয়া হয় এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পালিয়ে যাওয়া প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ঘটনার পরদিন ২০ মে ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করলে মামলাটি বিচারিক পর্যায়ে আসে। মঙ্গলবার সেই মামলার আনুষ্ঠানিক সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হলো।

SN
আরও পড়ুন