হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত

এমপিওভুক্ত বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে ভাইভা নিতে বাধা নেই

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৬ পিএম

বেসরকারি এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করেছে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত। এর ফলে আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে এই পদের জন্য মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) নিতে আর কোনো আইনি বাধা রইল না।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) আবেদনের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। তবে আদেশে বলা হয়েছে, আদালতে রিট আবেদনকারী ৪৬ জন শিক্ষকের জন্য ৪৬টি পদ সংরক্ষিত রাখতে হবে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৫ মার্চ সংশোধনীর মাধ্যমে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক পদে আবেদনের ক্ষেত্রে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে ওই সিদ্ধান্ত বাতিল ঘোষণা করে হাইকোর্ট রায় দেন। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের পক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং এনটিআরসিএর পক্ষে আপিল করা হয়। মঙ্গলবার শুনানি শেষে চেম্বার বিচারপতি হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত ঘোষণা করেন।

এর ফলে সরকার কর্তৃক ১৮ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রধান শিক্ষক পদে আবেদন করার সুযোগ দিয়ে চালু করা নতুন বিধি কার্যকর থাকবে। ইতিপূর্বে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হয়েছেন, তারা আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে অনুষ্ঠিতব্য সংশ্লিষ্ট পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।

দীর্ঘদিন ধরে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রধান শিক্ষকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য রয়েছে। চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি প্রকাশিত প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) অধীনে প্রধান শিক্ষক পদে মোট ১০ হাজার ২৭৮টি শূন্য পদ ছিল। এ ছাড়া কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে অধ্যক্ষ ও সুপার পদে প্রায় ১৫০টি এবং মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সুপার ও সহকারী সুপারসহ বিভিন্ন পদে মোট ৩ হাজার ১৩১টি শূন্য পদ ছিল। সব মিলিয়ে ওই সময় শূন্য পদের সংখ্যা ছিল প্রায় ১৩ হাজার ৫৫৯টি। 

চেম্বার আদালতের মঙ্গলবারের আদেশের ফলে মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক পদে দীর্ঘদিনের শূন্যতা এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় তৈরি হওয়া বিলম্ব নিরসনের পথ সুগম হয়েছে। ফলে ৪৬ জন রিট আবেদনকারীর জন্য ৪৬টি পদ সংরক্ষণ রেখে বাকি শূন্য পদগুলোতে নিয়োগপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি রিট আবেদনকারী ৪৬ জনের জন্য ৪৬টি পদ সংরক্ষণের নির্দেশনা দিয়েছেন। ফলে ওই ৪৬টি পদ বাদে অবশিষ্ট শূন্য পদগুলোতে নিয়োগপ্রক্রিয়া সরকার সম্পন্ন করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে বর্তমানে আর কোনো আইনগত বাধা থাকবে না। ফলে ১৫ অক্টোবর থেকে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার কার্যক্রম এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে চেম্বার আদালতের আদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জেএম
আরও পড়ুন