সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচন

বিএনপির বিজয়ীদের দায়িত্ব গ্রহণে মানা, খোকনের না

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২৪, ০১:৪০ পিএম

মারামারি ও মামলার মধ্য দিয়ে শেষ হওয়া সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সভাপতিসহ চারটি পদে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থীদের দায়িত্ব গ্রহণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে চিঠি দিয়েছে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম। ঘোষিত ফলাফল প্রত্যাখান করে পুনঃনির্বাচন দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি।

তবে সংগঠনের দেওয়া চিঠিতে পুনঃনির্বাচনের দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করলেও দায়িত্ব গ্রহণ থেকে বিরত থাকবেন কিনা সে বিষয়ে পরিস্কার করে কিছু বলেননি নবনির্বাচিত সভাপতি ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন।

মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ভোট গণনায় জালিয়াতি হয়েছে। আমি কিন্তু ওই দিনই ভোট পুনগণনার দাবি করেছি। আমার সেই আবেদন তখন কমিশন গ্রহণ করেনি। পুরো প্যানেলে আমরা কমপক্ষে ১২ জন এগিয়েছিলাম। পুননির্বাচনের দাবিতে আমরা এখনো অটল। আমার সভাপতি পদেও আমি পুনঃনির্বাচন চাই। পুনঃনির্বাচন হলে আমি খুশি হবো, আইনজীবীরা খুশি হবেন। আর পুনঃনির্বাচন যদি না হয়, আমি সভাপতি পদসহ চারটি পদে বিজয় হয়েছি। এখন তো আর পদত্যাগের সুযোগ নেই। শুধু এই চারপদে পুনঃনির্বাচনেরও সুযোগ নেই। এ সময় তিনি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের একজন নেতার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার ভূমিকা রহস্যজনক।

আওয়ামী লীগকে পুরো প্যানেল দিতে ওই নেতা ভোট গণনার সময় বিরত থাকতে অনুরোধ করেছিলেন। ভোট যাই হোক গণনা সুষ্ঠু হলে কম করে হলেও আমরা ১৩টি পদে জয় হতে পারতাম। কে কি বললো, সেটা দেখার বিষয় নয়। আমার পরাজয়ে কোনো ইতিহাস নেই। সে সময় তারা ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তা না হলে সংখ্যাগরিষ্ট হিসেবে আমরা জয় হতে পারতাম। দায়িত্ব না নেওয়ার জন্য সংগঠনের সিন্ধান্তের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমি নির্বাচিত, দায়িত্ব নেয়া বা না নেওয়ার কি আছে।

গত ৬ ও ৭ মার্চ দুই দিনব্যাপী সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনজীবীদের মধ্যে মারামারি, হামলা মামলার ঘটনাও ঘটে। পরবর্তীতে ৯ মার্চ ভোট গণণা করে ফল ঘোষণা করা হয়। যেখানে সভাপতিসহ চারটি পদে বিএনপি এবং ১০ পদে আওয়ামী লীগ জয় পায়। আগামী ৩১ মার্চের পরে নতুন কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের কথা রয়েছে।

এ অবস্থায় বুধবার (২৭ মার্চ) জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সিনিয়র আইনজীবী ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এজে মোহাম্মদ আলী ও মহাসচিব ব্যারিস্টার কায়সার কামাল স্বাক্ষরিত একটি চিঠি ইস্যু করেন। চিঠিতে নতুন নির্বাচিত সভাপতিসহ চারটি পদে বিজয়ীদের দায়িত্ব গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভোট ডাকাতি জায়েজ করতে আপনাদের নামকাওয়াস্তে বিজয়ী দেখানো হয়েছে। বিজ্ঞ আইনজীবী সমাজ ও দেশের আপামর জনগণ নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখান করেছে।

নির্বাচনে সভাপতি পদে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন নির্বাচিত হন। অন্যদিকে সম্পাদক পদে আওয়ামী লীগ তথা সরকার-সমর্থিত বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ (সাদা প্যানেল) থেকে অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক নির্বাচিত হয়েছেন।

নির্বাচনে সম্পাদক, দুই সহ-সভাপতি, দুই সহ-সাধারণ সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ ও সদস্য পদে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ তথা সাদা প্যানেলের ১০ জন প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে সভাপতিসহ ও তিনটি সদস্যসহ চার পদে বিএনপি-জামায়ত সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য (নীল) প্যানেলের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।

 

SI/SA
আরও পড়ুন