ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ চারটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের পর এবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনেও ছাত্রশিবির–সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের ভূমিধস বিজয় হয়েছে। ফলাফল ঘোষণার সময় শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচার চাওয়া হয়। এছাড়াও হাদির স্মৃতিকে স্মরণ করে বিতরণ করা হয় মুড়ি-বাতাসা।
মোট ২১টি পদের ১৫টিতে জয় পেয়েছেন- শিবির সমর্থিত প্যানেল। এতে জয় পেয়েছেন ‘নারায়ে তাকবির’ স্লোগান দেওয়া ইনকিলাব মঞ্চের সেই শান্তা আক্তার। ৩ হাজার ৫৫৪ ভোট পেয়ে তিনি সদস্য পদে জয় পেয়েছেন। জয় পাওয়ার পরেই তিনি মুড়ি ও বাতাসা বিতরণ শুরু করেন। এসময় তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
এর আগে ভোটের দিন ‘নারায়ে তাকবির’ স্লোগান দেওয়ায় তাকে হেনস্তা করা হয় এবং তার হাতের মাইক কেড়ে নেওয়া হয়। এর পর থেকেই তাকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলে। জয়ের খবর পেয়ে তিনি আবারও নারায়ে তাকবির স্লোগান দিয়ে হলরুম কাঁপিয়ে তোলেন।
বুধবার (৮ জানুয়ারি) মধ্যরাতে জকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান ফলাফল ঘোষণা করেন।
জকসু নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে এই প্যানেলের প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম ৫ হাজার ৫৫৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার পরিষদ সমর্থিত প্রার্থী একেএম রাকিব পেয়েছেন ৪ হাজার ৬৮৮ ভোট। ফলে ভিপি পদে রিয়াজুল ইসলাম ৮৭০ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন।
ঘোষিত ফলাফলে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদেও ছাত্রশিবির–সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। ফলে জকসুতে এই প্যানেলের প্রভাব ও সংখ্যাগরিষ্ঠতা স্পষ্ট হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, ভোটগ্রহণ ও গণনা প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কারিগরি জটিলতা ও দীর্ঘ বিরতির পরও সব পক্ষের উপস্থিতিতে ওএমআর মেশিন ও হাতে গণনার সমন্বয়ে ফলাফল নির্ধারণ করা হয়।
জকসু নির্বাচনে শিবিরের জয়, জামায়াত আমিরের অভিনন্দন
