বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম

বাঙালির ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রাণের মিলনমেলা অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হচ্ছে। এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’—যেখানে সৃজনশীলতা, জ্ঞানচর্চা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের সম্মিলন ঘটবে এক ছাদের নিচে।

বেলা ২টায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী মঞ্চ থেকেই তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫ প্রদান করবেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন একাডেমির সভাপতি আবুল কাসেম ফজলুল হক এবং স্বাগত বক্তব্য দেবেন মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম। এছাড়া শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখবেন সংস্কৃতি সচিব মো. মফিদুর রহমান এবং বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি-এর সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশা।

আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত চলবে মেলা। ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে, তবে রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন প্রবেশ বন্ধ থাকবে। ছুটির দিনে সময় শুরু হবে সকাল ১১টা থেকে।

এবারের আয়োজনে অংশ নিচ্ছে মোট ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান—এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি। সব মিলিয়ে ইউনিটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৮টি। বই ক্রয়ে বরাবরের মতো ২৫ শতাংশ কমিশন থাকছে। লিটল ম্যাগাজিন চত্বরে জায়গা পেয়েছে ৮৭টি পত্রিকা।

মেট্রোরেল স্টেশনের অবস্থান বিবেচনায় প্রবেশ ও বাহির-পথে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। টিএসসি, দোয়েল চত্বর, ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন এলাকা এবং মন্দির-গেটসংলগ্ন অংশ—এই চারটি পথে যাতায়াত করা যাবে।

পরিবেশবান্ধব আয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে এবারের মেলা হচ্ছে ‘জিরো ওয়েস্ট বইমেলা’। পুরো প্রাঙ্গণ পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ ব্যবহারে স্টলগুলোকে উৎসাহিত করা হয়েছে। ধুলো নিয়ন্ত্রণ, মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতায় বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। রমজানকে সামনে রেখে মুসল্লিদের জন্য নামাজের সুব্যবস্থা, ওয়াশরুম ও প্রয়োজনীয় পরিষেবাও নিশ্চিত করা হয়েছে।

শিশুদের জন্য আলাদা ‘শিশুচত্বর’ থাকছে, যেখানে ৬৩টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। প্রতি শুক্র ও শনিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ‘শিশুপ্রহর’ অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন বিকেলে মূল মঞ্চে সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকবে।

নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ, র‍্যাব ও আনসারের পাশাপাশি সিসিটিভি নজরদারি থাকবে পুরো এলাকায়। গুণগত মানের বই ও নান্দনিক স্টল সজ্জার জন্য বিভিন্ন পুরস্কারের পাশাপাশি নতুন করে চালু হয়েছে ‘সরদার জয়েনউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার’।

AS/AHA
আরও পড়ুন