জুলাই আন্দোলনে গণহত্যা সমর্থনের অভিযোগে চবি শিক্ষক আটক

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া ও গণহত্যা সমর্থনের অভিযোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদ রোমান শুভকে আটক করেছে চাকসু প্রতিনিধিরা।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার পর আইন অনুষদ ভবন থেকে পালানোর চেষ্টা করার সময় তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে হস্তান্তর করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের কলা ও মানববিদ্যা অনুষদভুক্ত বি ইউনিটের প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ পরীক্ষায় আইন অনুষদে দায়িত্বে ছিলেন হাসান মোহাম্মদ রোমান শুভ। তার উপস্থিতির খবর পেয়ে চাকসু প্রতিনিধিরা আইন অনুষদে যান। তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি পালানোর চেষ্টা করলে শিক্ষার্থীরা তাকে আটক করেন।

চাকসুর আইন সম্পাদক ফাজলে রাব্বি তাওহীদ, দপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান, ক্রীড়া সম্পাদক মেহেদী হাসান এবং নির্বাহী সদস্য সোহানুর রহমান তাকে আটক করেন।

অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যার পক্ষে অবস্থান নেওয়া, শিক্ষার্থীদের ‘শিবির ট্যাগ’ দিয়ে হেনস্তা করা, শাখা ছাত্রলীগের উপগ্রুপ সিএফসির পৃষ্ঠপোষকতা এবং নিজ বাসায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে মদের আসর বসানোর মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে, যা ইতোমধ্যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

এ ছাড়া প্রায় দেড় বছর আত্মগোপনে থাকার পাশাপাশি নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিত থাকায় সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার বেতন বন্ধ করেছে বলে জানা গেছে।

চাকসুর আইন বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি তাওহীদ বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের সময় গণহত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে হাসান মোহাম্মদ রোমান শুভর বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগ আমলে সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যুক্ত শিক্ষার্থীদের ‘জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে মামলা করেন। আইন অনুষদের শিক্ষার্থী জুবায়েরের বিরুদ্ধেও এমন একটি মামলার উদাহরণ রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক ছাত্রলীগকে সরাসরি সহায়তা দিতেন এবং বিভিন্ন সহিংস কর্মকাণ্ডে দিকনির্দেশনা দিতেন। তদন্ত চলমান থাকা সত্ত্বেও ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্ব নিয়ে ক্যাম্পাসে আসায় শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন করলে তিনি পালানোর চেষ্টা করেন।

আটকের বিষয়ে হাসান মোহাম্মদ রোমান শুভ বলেন, ‘আমি কোনো মৌন মিছিলে বের হইনি। কেউ যদি প্রমাণ করতে পারে, আমি যে কোনো শাস্তি মাথা পেতে নেব। আমি একজন সাবেক বিচারক ও আইনের শিক্ষক। আমি জুলাই আন্দোলনে কোথাও বের হইনি।’

শিক্ষার্থী বহিষ্কারের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি কীভাবে শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করব? আমি কি বোর্ড অব রেসিডেন্সের সদস্য ছিলাম? আমি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নই।’

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

NB/AHA
আরও পড়ুন