কওমি মাদরাসা স্থাপনে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন এবং হাফেজিয়া মাদরাসার জন্য পৃথক কেন্দ্রীয় বোর্ড গঠনের সরকারি উদ্যোগ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে কওমি মাদরাসা শিক্ষক পরিষদ।
শনিবার (১১ জুলাই) সংগঠনটির এক জরুরি সভা শেষে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়। সংগঠনটির দাবি, এ ধরনের উদ্যোগ বিদ্যমান আইন, কওমি শিক্ষাব্যবস্থার স্বকীয়তা এবং দীর্ঘদিনের পরিচালনা কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
সভায় সভাপতিত্ব করেন কওমি মাদরাসা শিক্ষক পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী (পীর সাহেব দেওনা)। বিবৃতিতে বলা হয়, জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০২৬-এর সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের উপসচিব (মাদ্রাসা-২) মো. রাহাত খান স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে কওমি মাদরাসা স্থাপনের নীতিমালা এবং দেশের হাফেজিয়া মাদরাসাগুলোর জন্য পৃথক কেন্দ্রীয় বোর্ড গঠনের বিষয়ে আলোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়।
বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, ওই বৈঠকে অংশগ্রহণে আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ এবং সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলোর প্রতিনিধিরা অসম্মতি জানিয়েছেন।
কওমি মাদরাসা শিক্ষক পরিষদের ভাষ্য, দারুল উলুম দেওবন্দের শিক্ষা-দর্শনের আলোকে পরিচালিত কওমি মাদরাসাগুলো দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অনুদান ছাড়াই শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বর্তমানে বিভিন্ন স্বীকৃত বোর্ডের মাধ্যমে পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, পরীক্ষা গ্রহণ, সনদ প্রদান, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, পরিদর্শন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সংগঠনটির মতে, হেফজ বিভাগও এসব বোর্ডের অধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া কওমি মাদরাসা শিক্ষা-সংক্রান্ত আইন কওমি শিক্ষাব্যবস্থার স্বকীয়তা ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের আইনি স্বীকৃতি দিয়েছে। ওই আইনের আওতায় আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থার সর্বোচ্চ সমন্বয়কারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। তাই বিদ্যমান কাঠামোর বাইরে পৃথক হাফেজিয়া বোর্ড গঠনের প্রয়োজনীয়তা নেই বলে সংগঠনটি মনে করছে।
সংগঠনটি বলেছে, কিছু বেসরকারি হেফজখানা স্বীকৃত কোনো বোর্ডের আওতায় নেই। এসব প্রতিষ্ঠানকে বোর্ডের অধীনে আনার বিষয়ে বেফাকসহ সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
বিবৃতিতে পৃথক হাফেজিয়া বোর্ড গঠন ও নতুন নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, এতে কওমি শিক্ষাব্যবস্থার প্রচলিত কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সংগঠনটির দাবি, হেফজ শিক্ষার স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বিদ্যমান ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
সবশেষে কওমি মাদরাসা শিক্ষক পরিষদ সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি কওমি মাদরাসার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য, বিদ্যমান আইন ও প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা কাঠামোর প্রতি সম্মান রেখে পৃথক হাফেজিয়া বোর্ড গঠন এবং নতুন নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহসভাপতি মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ূবী, সহসভাপতি মাওলানা আলী আজম, মহাসচিব মাওলানা মুস্তাকিম বিল্লাহ হামিদী, যুগ্ম মহাসচিব মুফতি দ্বীন মুহাম্মদ আশরাফ, যুগ্ম মহাসচিব মেরাজুল হক মাজহারীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।
বৃত্তি পরীক্ষায় অনুপস্থিতি বেড়েছে, কারণ খতিয়ে দেখছে সরকার
প্রাথমিক বৃত্তির ফল প্রকাশ, যেভাবে জানা যাবে
চট্টগ্রাম বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষা ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত
সরকারি কারিগরি প্রতিষ্ঠানের জন্য ৩ নির্দেশনা জারি