প্যান্টে মানা, তাই স্কার্টেই হানা! গরমে অতিষ্ঠ ছাত্রদের অভিনব প্রতিবাদ

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩০ এএম

তীব্র দাবদাহে যখন জনজীবন ওষ্ঠাগত, তখন স্কুল কর্তৃপক্ষের একগুঁয়েমির বিরুদ্ধে এক অভিনব লড়াই জিতলো ব্রিটেনের ইস্কা অ্যাকাডেমির ছাত্ররা।

গত ৪০ বছরের মধ্যে অন্যতম তপ্ত আবহাওয়াতেও স্কুল কর্তৃপক্ষ ছেলেদের জন্য হাফপ্যান্ট পরার অনুমতি দিচ্ছিল না। আর সেই 'নিষেধাজ্ঞার' তালা ভাঙতে ছেলেরা বেছে নিল স্কুলের পোশাকবিধিরই এক অদ্ভুত ফাঁক।

যেভাবে শুরু হলো এই ‘স্কার্ট বিপ্লব’

 

স্কুলের নিয়ম অনুযায়ী, মেয়েরা স্কার্ট পরতে পারলেও ছেলেদের জন্য বাধ্যতামূলক ছিল লম্বা ফুল প্যান্ট।

গরমে অতিষ্ঠ এক ছাত্র যখন হাফপ্যান্টের দাবি জানায়, তখন প্রধান শিক্ষিকা বিদ্রূপের সুরে বলেছিলেন, "চাইলে স্কার্ট পরে আসতে পারো।" প্রধান শিক্ষিকার সেই বিদ্রূপকেই তুরুপের তাস বানালো ছাত্ররা।

 প্রথম দিন: মাত্র ৫ জন ছাত্র বোন ও বন্ধুদের থেকে স্কার্ট ধার করে স্কুলে হাজির হয়।


 
দ্বিতীয় দিন: এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৩০ থেকে ৫০ জনে।

অনেক মা অভিযোগ করেন যে, হাফপ্যান্ট পরলে ছেলেদের ‘আইসোলেশন’ বা ক্লাসের বাইরে রাখার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু স্কার্ট পরায় আইনত কোনো বাধা ছিল না।

প্রতিবাদ ও অভূতপূর্ব সাফল্য

স্কুলের করিডোরে ছেলেদের টার্টান স্কার্ট পরা ছবি মুহূর্তেই টুইটারসহ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। দেশজুড়ে সাধারণ মানুষ ছাত্রদের এই বুদ্ধিমত্তার প্রশংসা করতে শুরু করে। স্কার্ট পরা এক ছাত্র মিডিয়াকে জানায়, ফুল প্যান্টের চেয়ে এটি বেশ আরামদায়ক!

ছাত্রদের অনড় অবস্থানের কাছে হার মানতে বাধ্য হয় স্কুল কর্তৃপক্ষ। প্রধান শিক্ষিকা এইমি মিচেল ঘোষণা করেন 

প্রতিবাদী ছাত্রদের কোনো শাস্তি দেওয়া হবে না।

পরবর্তী শিক্ষাবর্ষ থেকে স্কুল ইউনিফর্মে আনুষ্ঠানিকভাবে হাফপ্যান্ট অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

ছেলেরা প্রমাণ করে দিলো, প্রতিবাদের ভাষা যদি সৃজনশীল হয়, তবে কঠিনতম নিয়মও বদলে ফেলা সম্ভব। ব্রিটিশ এই কিশোরদের 'স্কার্ট পরে প্রতিবাদ' আজ বিশ্বজুড়ে লিঙ্গ বৈষম্য ও পোশাকবিধির যৌক্তিকতার এক দারুণ উদাহরণ হয়ে আছে।

HN
আরও পড়ুন