চলনবিলের দুর্গম জলাভূমিতে শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার অনন্য উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে ইউনেস্কো কনফুসিয়াস সাক্ষরতা পুরস্কার ২০২৫ অর্জন করেছে বাংলাদেশের শিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থা। সৌরশক্তিচালিত ভাসমান স্কুল প্রকল্পের জন্য পাওয়া এই সম্মানকে শিক্ষা ও জীবনব্যাপী শিখন প্রসারে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বুধবার (১০ জুন) ইউনেস্কোর ঢাকা কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভাসমান স্কুল প্রকল্পের প্রতিষ্ঠাতা ও শিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থার নির্বাহী পরিচালক স্থপতি মোহাম্মদ রেজওয়ানের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) দেবব্রত চক্রবর্তী এবং গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন ইউনেস্কোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. সুসান ভাইজ।
এ বছর শিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থার পাশাপাশি আয়ারল্যান্ডের জাতীয় প্রাপ্তবয়স্ক সাক্ষরতা সংস্থা এবং মরক্কোর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও এই পুরস্কার পেয়েছে। গ্রামীণ ও বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য উদ্ভাবনী সাক্ষরতা উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে তাদের এই সম্মাননা দেওয়া হয়।
দেশের অন্যতম বৃহৎ জলাভূমি অঞ্চল চলনবিলে শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে শিধুলাই। বর্ষাকালে যখন বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে ডুবে যায় এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, তখন এসব ভাসমান বিদ্যালয় শিশুদের শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
স্থানীয় কারিগরদের তৈরি ঐতিহ্যবাহী কাঠের নৌকায় গড়ে ওঠা এসব স্কুল পুরোপুরি সৌরশক্তিচালিত। বর্তমানে শিধুলাই ৫৬টি নৌকা পরিচালনা করছে। এর মধ্যে ২৬টি ভাসমান শ্রেণিকক্ষ, ১০টি গ্রন্থাগার ও কম্পিউটার ল্যাব, ৮টি প্রশিক্ষণকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বাকি নৌকাগুলো স্বাস্থ্যসেবা, খেলাধুলা এবং পরিবহনসেবা প্রদানে নিয়োজিত রয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে বাংলাদেশ থেকে ২০২৩ সালে ফ্রেন্ডশিপ এবং ২০১৩ সালে ঢাকা আহছানিয়া মিশন ইউনেস্কোর এই মর্যাদাপূর্ণ সাক্ষরতা পুরস্কার অর্জন করেছিল।
২৩ জেলা ও ৩২৯ উপজেলায় নতুন কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন
শিক্ষাক্রমে বাধ্যতামূলক হচ্ছে তৃতীয় ভাষা, উচ্চশিক্ষায় ঋণসুবিধা
প্রাথমিকে সংগীত-নৃত্য-চারুকলা চালু হলে লাগবে ৬০ হাজার শিক্ষক