খেলার ছলে শিক্ষা, শিক্ষার্থীরা পাবে খাবার ও পোশাক

আপডেট : ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:০৬ পিএম

বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় এক বড় ধরনের রূপান্তর আসতে যাচ্ছে। দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে ‘মিড-ডে মিল’ বা দুপুরের খাবার কর্মসূচি। একই সঙ্গে আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই সাড়ে চার লাখ শিক্ষার্থীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। 

শিক্ষার পরিবেশকে আরও আনন্দময় করে তোলা এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ক্লাসরুমমুখী করার অংশ হিসেবে এই মেগা পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

রোববার (১৪ জুন) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ইউনিসেফ আয়োজিত ‘ভ্যালিডেশন ওয়ার্কশপ অন দ্য বাংলাদেশ এডুকেশন সেক্টর এনালাইসিস (ইএসএ) ২০২৬’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সরকারের এই মহাপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

আধুনিক শিক্ষাবিদদের মতে, ক্লাসে শিক্ষার্থীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে এবং পুষ্টিহীনতা দূর করতে মিড-ডে মিলের কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষামন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, সরকার শিক্ষাকে কেবল বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ না রেখে একে আনন্দময় ও জীবনমুখী করে তুলতে চায়। 

শিক্ষা খাতের বিদ্যমান সব ধরনের সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে। বিশেষ করে দেশের বিশাল জনসংখ্যাকে অভিশাপ না ভেবে ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট’ বা জনমিতিক লভ্যাংশের সুবিধা কাজে লাগানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এই বিপুল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার দূরদর্শী লক্ষ্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে শিক্ষা খাতকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন বলে তিনি জানান।

এবারের শিক্ষাক্রম সংস্কারে কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়নই নয়, শিক্ষার্থীদের মানসিক ও নৈতিক বিকাশের ওপরও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী জানান, সরকার চায় প্রাথমিক পর্যায় থেকেই শিশুরা সুনাগরিকের গুণাবলি এবং দৃঢ় মূল্যবোধ নিয়ে বড় হোক। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রাথমিক শিক্ষাক্রমে, বিশেষ করে চতুর্থ শ্রেণি থেকে প্রথাগত পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি, নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধসহ জীবনমুখী বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে শিশুরা মুখস্থবিদ্যার বৃত্ত থেকে বের হয়ে খেলার ছলে মানবিক গুণাবলি অর্জনের সুযোগ পাবে, যা তাদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব দেওয়ার উপযোগী করে তুলবে।

অনুষ্ঠানে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের পদচারণায় শিক্ষা খাতের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর হার শূন্যে নামিয়ে আনতে এবং প্রান্তিক অঞ্চলের শিশুদের শিক্ষার মূলধারায় ধরে রাখতে সরকার স্কুল ড্রেস ও পুষ্টিকর খাবারের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া এবং ক্যাম্পেইন ফর পপুলার এডুকেশনের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী।

আন্তর্জাতিক অংশীজনদের প্রতিনিধি হিসেবে ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স, ব্রিটিশ হাইকমিশনের ফরেন কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের ডেপুটি ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর মার্টিন ডসন এবং বাংলাদেশে ইউরোপিয়ন ইউনিয়ন ডেলিগেশনের মিনিস্টার কাউন্সিলর মাইকেল ক্রেজা বাংলাদেশের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। 

তাঁরা মনে করেন, প্রাথমিক শিক্ষায় এই ধরনের বিনিয়োগ বাংলাদেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সমগ্র কর্মশালায় বক্তারা একমত হন যে, মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষাই টেকসই ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার মূল ভিত্তি।

Attr/AHA
আরও পড়ুন