আইইউটির ৩৮তম সমাবর্তনে ১৬ দেশের ৬৫৯ শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি প্রদান

প্রযুক্তি হতে হবে মানুষের কল্যাণে: শিক্ষামন্ত্রী

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৬ এএম

‘প্রযুক্তি হতে হবে মানুষের কল্যাণে’ উল্লেখ করে প্রযুক্তি ও প্রকৌশলকে মানুষের জীবন সহজ করা এবং সেবা আরো সহজলভ্য করার কাজে ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। 

 

তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের এমন দক্ষ জনশক্তি প্রয়োজন, যারা প্রযুক্তি বোঝার পাশাপাশি দেশের বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে তা প্রয়োগ করতে এবং নিজস্ব সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করতে পারে। প্রকৌশল ও প্রযুক্তির মাধ্যমে সেবা যেন সহজ হয় এবং আরো বেশি মানুষের নাগালে পৌঁছায়, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।’

 

রোববার (১১ অক্টোবর) গাজীপুরের বোর্ডবাজারে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) ৩৮তম সমাবর্তনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। 

 

অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন (ওআইসি)-এর অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর ও গাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত সমাবর্তনে ওআইসির ১৬টি সদস্য দেশের ৬৫৯ শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি দেয়া হয়।

 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘একটি কার্যকর উদ্ভাবন হতে পারে কৃষকের সময় বাঁচানোর যন্ত্র, স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করার সরঞ্জাম কিংবা ব্যবসায়ের ঝুঁকি কমানোর কোনো পদ্ধতি। উদ্ভাবন তৈরির ক্ষেত্রে যারা এর ব্যবহার করবেন, তাদের প্রয়োজন, সামর্থ্য ও বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে হবে। বিশেষ করে ব্যয়বহুল সমাধান ব্যবহারে অক্ষম মানুষের কথা বিবেচনায় রাখতে হবে।’

 

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার ক্ষেত্রেও সুযোগ সম্প্রসারণ জরুরি। আইইউটির পরিসর বাড়ার সাথে সাথে আর্থিক অবস্থা নির্বিশেষে মুসলিম উম্মাহর আরো মেধাবী তরুণের কাছে এর শিক্ষার সুযোগ পৌঁছানো উচিত। ওআইসি, সদস্য রাষ্ট্রগুলো ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগে মানসম্পন্ন শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ আরো বাড়ানো সম্ভব।’

 

গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ডিগ্রি অর্জন শুধু শিক্ষাগত সাফল্য নয়, এটি জনস্বার্থ রক্ষার দায়িত্বও। পেশাগত জীবনে সততা, জবাবদিহি, ন্যায়বিচার ও সহানুভূতিকে গুরুত্ব দিতে হবে। কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ থাকলে তার সীমাবদ্ধতা ব্যাখ্যা করতে হবে এবং ভুল হলে বিনয়ের সাথে সংশোধন করতে হবে।’ 

 

সাফল্যের পর বিনয়ী থাকা, কঠিন সময়ে ধৈর্য ধরা, নতুন দক্ষতা অর্জন এবং অন্যদের শেখার সুযোগ করে দেয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

 

আইইউটির ঐতিহাসিক ভূমিকা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৯ সালে ওআইসির উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেয়া হয়। ১৯৮১ সালের ২৭ মার্চ তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠানটির নাম হয় ইসলামিক ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি এবং ২০০১ সালে এটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নেয়।’ 

 

বর্তমান সরকারের দক্ষতা উন্নয়ন, কারিগরি শিক্ষা ও তরুণদের ক্ষমতায়নের অগ্রাধিকারের সাথে আইইউটির লক্ষ্য সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

সমাবর্তন বক্তা ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, ‘মেধা ও দক্ষতার অধিকারী গ্র্যাজুয়েটদের দায়িত্ব শুধু ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার গড়া নয়, বরং সমাজের মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিকসের যুগে প্রযুক্তির ব্যবহার মানুষের কল্যাণে হবে, নাকি ক্ষতির কারণ হবে, তা নির্ধারণে মানুষের মূল্যবোধ ও নৈতিকতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

 

সভাপতির বক্তব্যে আইইউটির ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ড. মো: মামুন বিন ইবনে রিয়াজ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়টিকে বিশ্বমানের গবেষণানির্ভর ও উদ্ভাবনকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে কাজ চলছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্যবিজ্ঞান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সাইবার নিরাপত্তার মতো উদীয়মান বিষয়ে শিক্ষার প্রসার, গবেষণার অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।’ 

 

তিনি গ্র্যাজুয়েটদের সততা, পেশাদারিত্ব ও মানবিকতার সাথে সমাজের সেবা করার আহ্বান জানান। 

 

এছাড়া অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি ড. হুসেইন আরাবি নূর, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ বক্তব্য দেন।

 

সমাবর্তনে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগে ১৫৫, তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশলে ১৪৯, যন্ত্রকৌশল ও উৎপাদন প্রকৌশলে ১৪৭, পুরকৌশল ও পরিবেশ প্রকৌশলে ১২৬, ব্যবসা ও প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনায় ৫৭ এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় ২৫ জন ডিগ্রি অর্জন করেন।

 

অসাধারণ অ্যাকাডেমিক ফলাফলের জন্য সুমাইয়া আহমেদ রানীকে ওআইসি স্বর্ণপদক দেয়া হয়। 

 

এ ছাড়া আশফাক সিরাজ শুভ, মুহাম্মদ শাফায়াত জামিল, খালিদ হাসান আদর, আদিবা জাহিন, ফারহান লাবিব ও তাসফিয়াহ মাহমুদ আইইউটি স্বর্ণপদক পান। অনুষ্ঠানে বাউবি ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান খান, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো: নূরুল করীম ভূইয়া সহ বিশিষ্ট অতিথি, কূটনীতিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।

এইচএন
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত