২ যুগ পেরিয়ে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৪, ০২:১০ পিএম

সবুজে মোড়ানো দৃষ্টিনন্দন নীলকমল-লালকমল লেক। বৃক্ষশোভিত জার্মপ্লাজম সেন্টার কিংবা এগ্রোনোমি ফিল্ড। প্রকৃতির মাঝে একাকার হয়ে আছে পাশের প্যারিস রোড। সূর্য উঠার সাথে সাথে পাখিদের কিচিরমিচিরে ক্যাম্পাস হয়ে ওঠে আরো দৃষ্টিনন্দন। বিশাল ক্যাম্পাসের মাঝে কৃষি খামার,সমৃদ্ধ শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ সৃজনশীল প্রতিভায় যুক্ত করে নতুন এক উদ্দীপনা। এ যেন কৃষির এক অপূর্ব শোভিত মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। বলছিলাম পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) কথা। দক্ষিণবঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ ও গবেষণার আঁতুড়ঘর এ বিশ্ববিদ্যালয় ২ যুগ পেরিয়ে ২৫ এ পা দিয়েছে আজ। প্রতি বছর ৮ জুলাই পবিপ্রবিতে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালিত হয়।  
 
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস: বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুলগ্নে পটুয়াখালীর তৎকালীন মন্ত্রীপরিষদ সচিব ও সাবেক মন্ত্রী মরহুম মোহাম্মদ কেরামত আলী (১৯৭৯-৮০) শিক্ষাবর্ষে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহের অধিভুক্ত হয়ে বেসরকারি কৃষি কলেজ হিসেবে স্নাতক পর্যায়ে কার্যক্রম শুরু করে। ২০০০ সালের ৮ই জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এই কৃষি কলেজটিকে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে উদ্বোধন করেন এবং যাত্রা শুরু হয় দক্ষিণ অঞ্চলের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ের। ২০০১ সালের ১২ জুলাই জাতীয় সংসদে পটুয়াখালী কৃষি কলেজ বিলুপ্ত করে ‘পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’ আইন পাস হয় এবং ২০০২ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এটি বাস্তব রূপ লাভ করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টি আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অগ্রসর অবদানের জন্য দেশ-বিদেশে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছে।

ক্যাম্পাস পরিচিতি: পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) ১০৯.৯৭ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এর মধ্যে ৩৭ একর জমির ওপর বিশাল কৃষি গবেষণা খামার রয়েছে। মূল ক্যাম্পাসের একাডেমিক ভবনের সামনে বৃক্ষশোভিত সুদীর্ঘ একটি লেক রয়েছে, যা ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। ক্যাম্পাসের উত্তর-পশ্চিমাংশে অত্যাধুনিক ডিজাইনের পুরুষ ও মহিলা হল বিদ্যমান। একাডেমিক ভবন থেকে হলে যাওয়ার পথে মসজিদ অবস্থিত। মসজিদের পাশেই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং এর উল্টো দিকে লাইব্রেরি ভবন। একটি প্রশস্ত রাস্তা ক্যাম্পাসের ওপর দিয়ে পূর্বের পীরতলা থেকে পশ্চিমের পটুয়াখালী-বাউফল সড়কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছে। এ সড়কের দক্ষিণ দিকে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের আবাসিক কোয়ার্টার এবং এর দক্ষিণে সৃজনী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ নামের একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। মূল ক্যাম্পাসের পূর্ব দিকে পীরতলা বন্দর পেরুলেই কৃষি গবেষণা খামার। এছাড়াও পবিপ্রবির একটি বহিস্থ ক্যাম্পাস রয়েছে, যা বরিশাল জেলার খানপুরা, বাবুগঞ্জে ১২.৯৭ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। বহিস্থ ক্যাম্পাসটি বরিশাল জেলা শহর থেকে ১২ কিমি দূরে অবস্থিত। ৯ টি অনুষদের অধীন ৫৯ টি বিভাগে শিক্ষার্থীরা তাদের পড়াশোনা ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। 

অবকাঠামো ও আবাসন ব্যবস্থা: ছাত্র-ছাত্রীদের আবাসনের সুবিধার্থে রয়েছে আটটি হল। ছাত্র হল- শের-ই-বাংলা হল-১, শের-ই-বাংলা হল-২, এম.কেরামত আলী হল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর হল (বরিশাল ক্যাম্পাস)। ছাত্রী হল- শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল (মূল ক্যাম্পাস), শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল (বরিশাল ক্যাম্পাস), কবি বেগম সুফিয়া কামাল হল)। ভর্তির পর ওরিয়েন্টেশন ক্লাসের দিন থেকেই প্রত্যেক শিক্ষার্থী হলে থাকার সুযোগ পায়। স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের জন্য একটি এনেক্স ভবন নির্মিত হয়েছে, যা তাদের আবাসনের জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে। 

মেগা প্রকল্পসমূহ: প্রতিষ্ঠার ২৪ বছর পার হলেও প্রায় প্রতিটি বিভাগে রয়েছে পর্যাপ্ত ক্লাস রুমের সংকট। কোনো কোনো অনুষদে প্রয়োজনের বিপরীতে নেই পর্যাপ্ত ল্যাব । ফলে বিঘ্নিত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণ এবং মৌলিক ব্যাবহারিক জ্ঞান। অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। ১০ তলা ও ৬ তলা বিশিষ্ট দুটি একাডেমিক ভবন এবং শিক্ষার্থীদের আবাসন ব্যাবস্থার উন্নতিকরণের লক্ষে এবং গণরুম নিরসনে ১০ তলা বিশিষ্ট শেখ হাসিনা হল এবং শেখ রাসেল হল নির্মিত হচ্ছে।  মুক্তমঞ্চ, মিনি স্টেডিয়াম, আধুনিক ব্যায়ামাগার, সবুজ বেষ্টনীবিশিষ্ট প্রাচীর নির্মাণসহ নানাবিধ অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলমান রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনায় রয়েছে সাগর সৈকত কুয়াকাটায় ফিশারিজ ফ্যাকাল্টি, সমুদ্র বিজ্ঞান ও ফরেস্ট্রি বিজ্ঞানসহ তিনটি পৃথক অনুষদের রিসার্চ সেন্টার তৈরী করার।

সংগঠন সমূহ: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংগঠন যেন একেকটি প্রাণ। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনেকগুলো দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক সংগঠন চলমান রয়েছে। তন্মোধ্য পবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতি, বাঁধন পবিপ্রবি ইউনিট, স্কুল অব আর্থ এন্ড ইনভারেন্টমেন্ট, বন্ধুসভা, হাল্ট প্রাইজ, আলোকতরী, ডিবেটিং ক্লাব, রোভার স্কাউটস, বিনএনসিসি, ক্যারিয়ার ক্লাব, আর্ট গ্যালারী, ফটোগ্রাফি ক্লাব, ইচ্ছে ফিরি, ইকো নেটওয়ার্ক, ইয়ুথ ম্যাপ, বন্ধু লাইব্রেরি, ভেটেরিনারি স্টুডেন্ট'স এসোসিয়েশন, এনএফএস ক্লাব, বিজনেস ক্লাব, ইএসডিএম ক্লাব, সিএসই ক্লাব, ইউএনওয়াইএসএ। এছাড়াও আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর মাঝে আইএএএস এবং ইন্টারন্যাশনাল ভেটেরিনারি স্টুডেন্ট'স এসোসিয়েশন (আইভিএসএ)। রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে একমাত্র বাংলাদেশ ছাত্রলীগই সক্রিয় রয়েছে।  

গবেষণায় পবিপ্রবি: গবেষণায় এগিয়ে যাচ্ছে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। কৃষি ক্ষেত্রে নতুন উদ্ভাবন যেনো কৃষি নির্ভর দেশকে আরো এগিয়ে নিচ্ছে। গবেষণার কিছু সফলতা তুলে ধরা হলো-    

পাঁচ শতাধিক ধানের গবেষণা ও জার্মপ্লাজম: দক্ষিণাঞ্চলের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে দেশীয় ধানের গুণগত মান সংরক্ষণ ও এর জিনগত উন্নয়নের মাধ্যমে ফলন বৃদ্ধি সম্পর্কিত গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব বিভাগ। বর্তমানে পাঁচ শতাধিক জার্মপ্লাজম নিয়ে কাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। এই সংগ্রহশালায় ১০০টি দেশীয় জাতের পাঁচ শতাধিক রকমের ধানের জার্মপ্লাজম রয়েছে। এগুলোর মধ্যে- স্বর্ণভোগ, চারুলতা, নাকুচিমোটা, স্বর্ণ মুশুরী, স্বাক্ষরখোড়া, মোথামোটা, কালোজিরা, ছোটহরি, কালোকোটা, কাজল শাইল, মৌলতা, ক্ষীরামোটা, লালমোটা অন্যতম। এ বিষয়ে পবিপ্রবি'র গবেষক অধ্যাপক ড. শামিম মিয়া বলেন, পবিপ্রবিতে দেশীয় ধানের যে বিশাল সংগ্রহশালা রয়েছে দেশে এমন সংগ্রশালা বিরল। এ ধানের জাতগুলোর বেশ কয়েকবছর ধরে জেনেটিক্যালি মোডিফিকেশনের কাজ চলছে যেগুলোর মাধ্যমে উচ্চফলনশীল ধান আবাদ সম্ভব। এ ধান গুলোর সিড তৈরী করে মাঠপর্যায়ে তথা কৃষকের হাতে পৌঁছে দিলে দেশের কৃষির জন্য এক বিস্তর সাফল্য বয়ে আনবে বলে আশা করছি।

বায়োচার প্রযুক্তি: পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. শামীম মিয়া তিন বছর দীর্ঘ গবেষণার পর ২০১৪ সালে বায়োচার প্রযুক্তিতে উদ্ভাবনে সক্ষম হন। তিনি সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি ও পরিবেশ বিজ্ঞান অনুষদে পিএইচডি গবেষক হিসেবে কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি বায়োচার প্রযুক্তির উন্নয়নে বেশ কয়েকজন স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি শিক্ষার্থী নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে বায়োচার প্রযুক্তি নিয়ে অ্যাডভান্স কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (এসিআই) ও পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বর্তমানে ড. শামীম মিয়ার তত্ত্বাবধানে জৈব বর্জ্য থেকে বায়োচার উৎপাদন এবং সেই বায়োচার কম্পোস্ট বায়োমাসের সাথে মিশিয়ে উন্নত মানের কম্পোস্ট সার উৎপাদনের প্রক্রিয়া চলমান আছে। এ গবেষণায় সফল হলে দেশের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও উৎপন্ন বর্জ্যের কার্যকর ব্যাবহার নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি এ প্রকল্পের আওতায় বায়োচার সমৃদ্ধ ফসফেট সার উৎপাদন, বায়োচার থেকে রাইজোবিয়াল ফার্টিলাইজার বা বায়োচার অণুজীব সার উৎপাদন প্রক্রিয়া গবেষণাধীন রয়েছে। যেগুলো আমাদের মতো কৃষি নির্ভর দেশের জন্য এক অপার সম্ভাবনার হাতছানি। কৃষি প্রযুক্তি ও গুণগত উন্নয়নে বায়োচার আগামীতে অন্যন্য ভূমিকায় থাকবে বলে আশা করছেন অনেকে।

দেশের প্রথম ও একমাত্র জলহস্তী কঙ্কাল: পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানাটমি অ্যান্ড হিস্টোলজি বিভাগের অধ্যাপক সাইদুর রহমানের তত্ত্বাবধানে একদল শিক্ষার্থী জলহস্তীর হাড় জুড়ে একটি কঙ্কাল প্রস্তুত করেছেন। ১১ মাস সময় নিয়ে তৈরী এ কঙ্কালটি দেশের প্রথম ও একমাত্র জলহস্তী কঙ্কাল। অ্যানাটমি অ্যান্ড হিস্টোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. সাইদুর রহমান বলেন, রংপুর চিড়িয়াখানায় ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মৃত্যু হয় লিওন নামে জলহস্তীটির। শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. স্বদেশ চন্দ্র সামন্তের সহযোগিতায় এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তৎকালীন মহাপরিচালক আব্দুল জব্বারের অনুমতিতে সেপ্টেম্বর মাসে সেটি চিড়িয়াখানা থেকে উত্তোলন করে ক্যাম্পাসে আনা হয়। বর্তমানে ড. মো. সাইদুর রহমানের তত্ত্বাবধানে একটি বাঘের কঙ্কালও তৈরী প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ইতোমধ্যে যার ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে জানান এ গবেষক। 

মৎস্য গবেষণা: বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের  মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের তত্ত্বাবধায়নে ‘দানিডা’ কর্তৃক অর্থায়নে কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেনমার্কসহ ইউরোপ এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ে ‘ব্যাংফিশ’ নামক যৌথ প্রকল্প সফলভাবে শেষ করে তার ধারাবাহিকতায় ‘ইকোপ্রাউন’ নামক প্রকল্প শুরু হয়েছে- যা ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত চলবে। সম্প্রতি, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের অর্থায়নে মৎস্য অধিদপ্তরের ‘সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ’ প্রকল্পের মাধ্যমে ২টি গবেষণা প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে, যেখানে একটি প্রকল্পে সী-উইড দিয়ে খাবার তৈরি করে ভেটকি মাছের চাষ বৃদ্ধি এবং অপর প্রকল্পে টুনা ও টুনাজাতীয় মাছের মূল্য সংযোজন ও নিরাপদ শুঁটকি তৈরি নিয়ে গবেষণা হবে। এছাড়া নিউজিল্যান্ডের ‘ফিশ সেফটি ফাউন্ডেশন’ এর পরিচালনায় ও যুক্তরাজ্যের অর্থায়নে দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের সমুদ্রগামী মৎস্যজীবীদের নিরাপদ ও উন্নত জীবনযাপনের উদ্দেশ্যে ‘ফিশিং সেফটি ইন্টারভেনশন প্রোগ্রাম’ (fish SAFE 2025 Phase-1) চলমান রয়েছে। পাশাপাশি স্থায়িত্বশীল সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ আহরণ ও ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে সাগরকন্যা কুয়াকাটায় একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী ‘মেরিন ফিশারিজ রিসার্চ ইন্সটিটিউ’ প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বহিস্থ ক্যাম্পাসের বাস্তবতা: মূল ক্যাম্পাস যতটুকু দৃষ্টিনন্দন, ঠিক তেমনই বাস্তবতার স্বরূপ চিনাবে বরিশালের বাবুগঞ্জের এনিমেল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদ ক্যাম্পাস। বিশ্ববিদ্যালয় ২৪ পেরিয়ে ২৫ বছরে পা দিতে যাচ্ছে তবুও অবকাঠামোগত পিছিয়েই আছে বহিস্থ এই ক্যাম্পাসটি। আবাসন সমস্যা যেভাবে পীড়া দেয়, তেমনি একটি পরিপূর্ণ ক্যাম্পাস হিসেবে ক্রমেই শোষিত হচ্ছে অত্র ক্যাম্পাসটি। একটি অপরিপূর্ণ হল এবং প্রতিষ্ঠানকালীন একাডেমিক ভবন প্রতিনিয়ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নিয়ে ক্রমেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। অকার্যকর ল্যাব কিংবা অপরিপূর্ণ হল, একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ক্যান্টিন কিংবা একটি পরিপূর্ণ লাইব্রেরি সবকিছুতে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবী, দুই ক্যাম্পাসকে একীভূতকরণের মাধ্যমে শোষন-বঞ্চনার নিরসন। 

উপাচার্যের বক্তব্য: বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত বলেন, গ্র্যাজুয়েটরা যেন সফল উদ্যোক্তা এবং একজন সফল গবেষক হতে পারে সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিং উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে এবং স্মার্ট শিক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আউটকাম বেইজড কারিকুলাম চালু করেছি। গত কয়েক বছরে পবিপ্রবি গবেষণা খাতে যথেষ্ট উন্নতি করেছে। উন্নত জাতের ফলের উদ্ভাবন থেকে শুরু করে বায়োচার প্রযুক্তি, ফিশ ফিড এবং শুঁটকির সংরক্ষণ প্রযুক্তি উদ্ভাবনসহ উপকূল অঞ্চলের কৃষিজ উন্নয়নে গবেষকেরা কাজ করে যাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের দক্ষ গ্র্যাজুয়েট এবং অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক গুণাবলি সম্পন্ন দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তুলতে আমার সর্বাত্মক চেষ্টা থাকবে। গবেষণা কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে শিগগিরই গবেষণা নীতিমালা তৈরি করব। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সবসময়ই গবেষণার ব্যাপারে উৎসাহ দেওয়া হয়। গত কয়েক বছরে পবিপ্রবি গবেষণা খাতে যথেষ্ট উন্নতি করেছে। উন্নত জাতের ফলের উদ্ভাবন থেকে শুরু করে বায়োচার প্রযুক্তি, ফিশ ফিড এবং শুঁটকির সংরক্ষণ প্রযুক্তি উদ্ভাবনসহ উপকূল অঞ্চলের কৃষিজ উন্নয়নে পবিপ্রবির গবেষকেরা কাজ করে যাচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা আরও এগিয়ে নিতে সরকার ইতোমধ্যে এনিমেল সাইন্স এন্ড ভেটেনারী মেডিসিন অনুষদের উন্নয়নে ৫০০ কোটি টাকা বাজেট অনুমোদন দিয়েছে যার আওতায় ‘এনিম্যাল হাজবেন্ড্রি রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ ও একটি গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা করা হবে। পাশাপাশি কুয়াকাটায় ‘ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠায় ৭০০ কোটি টাকা বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

ZM
আরও পড়ুন