দেশের এটিআই (কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট) গুলোর শিক্ষার্থীদের ৮ দফা দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কাজ করছে বলে জানিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।শিক্ষার্থীরা ৮ দফা দাবি বাস্তবায়নে রাজপথে আন্দোলনে নামার প্রেক্ষিতে দেশের এটিআই’র একটি সমাধান সূত্র দ্রুত বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে সরকার।
এটিআই শিক্ষার্থীদের দাবি সমূহ বাস্তবায়নের উদ্যোগসহ তাদেরকে নিয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে গত ১৭ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। সরকারের নেয়া উদ্যোগ সফল হলে সারাদেশে ১৮টিএটিআই সরকারিভাবে কৃষি ডিপ্লোমা করার এবং ১৬২টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কৃষি ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের আবাসন ব্যবস্থার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
জানা গেছে, অতীত সরকারের ভুলের কারণে এসব এটিআইর সরকারি এবং বেসরকারি শিক্ষার্থীদের আবাসনের সুযোগ থাকার পরেও তারা সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল। তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এসব শিক্ষার্থীরা ৮ দফা দাবি নিয়ে আন্দোলনে নামেন। এরপর সরকার দেশের এটিআই সমূহের ছাত্র-ছাত্রীদের ৮ দফা দাবির বাস্তবায়নে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে। তারই প্রেক্ষিতে কৃষি মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত হয় তাদের দাবি বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয় সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহন করে।
গত ১৭ এপ্রিল রাত ১০টা ২১ মিনিটে ই-মেইলে এতথ্য জানিয়েছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মোহাম্মদ জাকির হোসেন। প্রেরিত বিবৃতিতে তিনি জানান, এটিআই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ৮ দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকার সদয় বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সম্মত হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে তাদের নায্য দাবি মেনে নিচ্ছে সরকার। এসব দাবির বেশিরভাগই বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাস্তবায়িত দাবির মধ্যে রয়েছে:
১. এটিআই শিক্ষার্থীরা যে উচ্চ শিক্ষার বিষয়ে যে দাবি জানানো হয় সেই দাবি বাস্তবায়নে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সভায় কৃষি ডিপ্লোমাধারীদের উচ্চ শিক্ষা নিশ্চিত করতে স্বতন্ত্র উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ প্রেরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যা গত ১৭ এপ্রিল সিদ্ধান্ত আকারে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষামন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
২. জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০১৫ অনুযায়ী সরকারিকর্মচারীগণ বেতন স্কেলের গ্রেডভিত্তিক পরিচিত হওয়ার বিধান থাকায় উপ-সহকারী কৃষিকর্মকর্তাদের ১০ গ্রেড বা ২য় শ্রেণির গেজেটেড বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হলেও তাদের দাবি অনুযায়ী প্রজ্ঞাপন জারীর সুযোগ নেই। প্রতিবছর নিয়োগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এ বিষয়ে সচিব পর্যায়ে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে।
৩. প্রতিষ্ঠানসমূহের শিক্ষক সংকট দূরীকরণে ইতোমধ্যে বিভিন্ন ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষক পদায়ন করা হয়েছে এবং স্বল্প সময়ের মধ্যে অবশিষ্ট শূন্য পদ দ্রুত পূরণ করা হবে।
৪. কৃষি ডিপ্লোমা শিক্ষার কারিকুলাম ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে কার্যক্রমে কোন সমস্যা থাকলে তা লিখিত আকারে প্রেরণ করলে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য দাবিগুলোর মধ্যে:
৫. কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কৃষি ডিপ্লোমাধারীদের জন্যপদ সংরক্ষণে গবেষণা প্রতিষ্ঠানসমূহের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেবার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
৬. ডিপ্লোমাকৃষিবিদদের বেসরকারি চাকুরী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ১০ গ্রেডের সমপরিমাণ বেতন মন্ত্রণালয় প্রত্যাশা করে কিন্তু‘ এ বিষয়ে কোন সিলিং নির্ধারণ মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারবহির্ভূত বিধায় তা বাস্তবায়নে জটিলতা রয়েছে।
৭. কৃষি ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের মাঠ সংযুক্তিতে ভাতা প্রদানের বিষয়ে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মাঠ সংযুক্তিতে কিভাবে ও কি হারেভাতা পান বা পেতে পারেন তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে এবং ৮. উপ-সহকারীকৃষি কর্মকর্তাদের জন্য ফাউন্ডেশন কোর্সের বিষয়ে ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এবিষয়ে ২ মাসব্যাপী ট্রেনিং মডিউল গঠনের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে বিবৃতিতেউল্লেখ করা হয়।
জানা গেছে, এটিআই সমূহের ছাত্র-ছাত্রীদের ৮ (আট) দফা দাবির প্রেক্ষিতে চলমাম আন্দোলনের ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে এটিআই ছাত্র প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা ও তাদের দাবী নিরসনে গত ১৩ এপ্রিল কৃষি সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ার সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপরোক্ত সিদ্ধান্ত সমূহ গৃহীত হয়। সভায় কৃষি মন্ত্রণালয় ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ০৬ (ছয়) প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত ১১ এপ্রিল আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও এটিআইয়ের অধ্যক্ষদের সঙ্গে অনলাইন সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, ছাত্রদের আবাসনের জন্য কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, ঢাকায় তিন তলা বিশিষ্টএকটি অত্যাধুনিক ছাত্রাবাস রয়েছে। ছাত্রাবাসটিতে একটি কমন রুম, একটি ডাইনিংরুম, একটি অফিস কক্ষ ও ছাত্রদের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক কক্ষ রয়েছে। ছাত্রাবাসের সামনে একটি সুবিশাল খেলার মাঠ রয়েছে। ছাত্রাবাসটিতে বর্তমানে ১২০ জন ছাত্রের আবাসন সুবিধা রয়েছে। মেধা ও প্রাপ্যতার ভিত্তিতে ছাত্রদের মধ্যে আবাসনের জন্য ছাত্রাবাসের আসন বরাদ্দ করা হয়ে থাকে।
ছাত্রীদের আবাসনের জন্য কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, ঢাকায় তিন তলা বিশিষ্ট আরও একটিঅত্যাধুনিক ছাত্রীনিবাস রয়েছে। ছাত্রীনিবাসটিতে একটি কমন রুম, একটি ডাইনিং রুম,অফিস কক্ষ ও ছাত্রীদের আবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক কক্ষ রয়েছে। ছাত্রীনিবাসের অভ্যন্তরেএকটি খেলার মাঠ রয়েছে। ছাত্রীনিবাসটিতে বর্তমানে ৮০ জন ছাত্রীর আবাসন সুবিধা পাচ্ছেন। ছাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য ছাত্রীনিবাসে সার্বক্ষণিক নিরবিচ্ছিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা যা সরকারিভাবে নিয়ন্ত্রন করা হয়। যদিও এসব ছাত্রী নিবাসে মেধা ও প্রাপ্যতার ভিত্তিতে বরাদ্দ দেওয়া হয়।